
প্রযুক্তির ভিড়ে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী
মোংলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩২

আসমা হত্যাকাণ্ড: গ্রেফতার ২ আসামি পুলিশ হেফাজতে | ছবি: প্রতিনিধি
দীর্ঘ ৬০ দিন ছায়া তদন্তের পর চাঞ্চল্যকর আসমা বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ইকরামুল শেখ (৪০) ও মীর আলী (৪৮) নামে ২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম।
ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আসমার চা দোকানে যাওয়া আসা করতেন। বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে টাকা-পয়সা লেনদেনও হয়। পূর্ব পরিচয় ব্যবহার করে আসমাকে মোংলা থেকে দাকোপে ডেকে নেন তারা। সেখানেই ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে ফেলা হয় মরদেহ।
পুলিশ বলছে, তেমন কোনো আলামত ছিল না। তা সত্ত্বেও সূক্ষ্ম তদন্ত চালানো হয়। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ২ আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নিহত আসমার মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা চা বিক্রেতা আসমাকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২ সন্তানের জননী নিহত আসমা বেগমের (৩৯) বাড়ি মোংলার মালগাজী এলাকায়। ফেরিঘাট সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় চায়ের দোকান চালাতেন তিনি।
১৪ আগস্ট দিবাগত রাতে দোকান থেকে বাড়ির উদ্দেশে বের হয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন আসমা। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে ১৬ আগস্ট মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।
পরে, ২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কাজিবাছা নদী থেকে অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। ওই সময় মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত না হলেও; আলামত হিসেবে নাকফুল ও পরিধেয় কাপড়ের ছবি সংরক্ষণ করা হয়।
নৌ পুলিশের সংরক্ষিত ছবি-তথ্যের ভিত্তিতে ছায়া তদন্ত শুরু করে মোংলা থানা পুলিশ।
নিখোঁজ আসমার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে তার ব্যবহৃত কাপড়ের সঙ্গে অর্ধগলিত মরদেহের কাপড়ের সাদৃশ্য খুঁজে পায় তদন্ত দল এছাড়া, বিশেষ ধরনের নাকফুলের ছবি দেখানোর পর উপস্থিত স্বজনরা মরদেহটি চা বিক্রেতা আসমার বলে নিশ্চিত করে।
নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কল ডিটেলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ এবং নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে প্রথমে ধরা পড়ে ইকরামুল। পরে, তার দেওয়া তথ্যে ধরা পড়েন মীর আলী।