
মানবজাতির জন্য ‘বিপর্যয়কর ঝুঁকি’ তৈরি করতে পারে এআই, অ্যানথ্রোপিকের সতর্কবার্তা

সাইবার হামলার হুমকিতে থাকা দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা অডিটের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি প্রতীকী
প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির ত্রুটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে দেশের ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইবার নিরাপত্তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি জানিয়েছে, নিবন্ধিত শতাধিক প্রতিষ্ঠানে আইটি অডিট শেষে তৈরি করা হবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন। প্রথমবারের মতো এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে জনসমক্ষে। নিরাপত্তার মান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঁচ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে। এর ফলে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে প্রথমবার ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় মাইগভ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট। দ্বিতীয় দফায়ও ত্রুটি শনাক্ত হলে সাইবার হামলার ঝুঁকিতে থাকা পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সতর্ক করে বিজিডি ই-গভ সার্ট।
এ অবস্থায় তথ্য সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাসীনতার চিত্র উঠে এসেছে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্টের পর্যবেক্ষণে। বিজিডি ই-গভ সার্টের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হক খন্দকার বলেন, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মেইনটেন্যান্সের কোনো চুক্তিও নেই। ভেন্ডরকে হয়তো বিষয়টি জানানো হয়েছে, কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।
এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত আর্থিক খাতের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও। তাদের মতে, সমস্যার পেছনে শুধু অবহেলা নয়, পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবও রয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, মাঠপর্যায়ের সমীক্ষায় দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা সূচক ৫ শতাংশেরও নিচে। বাজেটও পর্যাপ্ত নয়। এমনকি ফ্রি ফায়ারওয়াল ও ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে; এমন ব্যাংকের সংখ্যা ১০টির বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা যাচাইয়ে অনলাইনভিত্তিক ‘ন্যাশনাল রেটিং সিস্টেম’ চালু করেছে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি। এরইমধ্যে ব্যাংকসহ ১১০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এ ব্যবস্থায় নিবন্ধন করেছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে আইটি অডিট শেষে আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। নিরাপত্তার মান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘ট্রিপল এ’, ‘ট্রিপল বি’সহ মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হতে পারে।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, রেটিং প্রকাশের সময় কোন খাত বা কোন উপাদানে দুর্বলতা রয়েছে, তা-ও জানানো হবে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার মান সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো মানের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার কিনতে এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতাও বাড়বে।
এদিকে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার তাগিদ দেয়ার পাশাপাশি জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির করা অডিট ও রেটিং দেয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান আমিনুল হাকিম বলেন, রেটিং ব্যবস্থায় কোনো ধরনের কারসাজি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট কিংবা অর্থের বিনিময়ে ‘ট্রিপল’ র্যাংকিং পাওয়ার মতো ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।