
বাংলাদেশকে এআই হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় পরিসরে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে, যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে এআই মানবজাতির জন্য ‘বিপর্যয়কর ঝুঁকি, এমনকি অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে’।
ক্লড চ্যাটবটের নির্মাতা অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নাসডাকে ‘এএনটি’ প্রতীকে তালিকাভুক্ত হবে। পুরোপুরি এআইকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এটা হবে প্রথম কোম্পানি। ফলে প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠবে।
অ্যানথ্রোপিকের মূল্যায়ন স্পেসএক্সকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রীষ্মে প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রায় ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে স্পেসএক্স এ ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছিল। তবে অ্যানথ্রোপিক এখনো কতটি শেয়ার ছাড়বে, শেয়ারের সম্ভাব্য মূল্যসীমা কত হবে কিংবা কবে তালিকাভুক্ত হবে, তা জানায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অ্যানথ্রোপিকের আয় হয়েছে ১৬.৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার)। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছে ৮০.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
তালিকাভুক্তির আগে জমা দেওয়া নথিতে অ্যানথ্রোপিক বলেছে, এআই ব্যবস্থা মানবজাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, গবেষক এবং প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে, যথাযথ সুরক্ষা, তদারকি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া উন্নত এআই ব্যবস্থা তৈরি, ব্যবহার ও পরিচালনা করা হলে তা মানবজাতির জন্য বিপর্যয়কর কিংবা অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে এসব ব্যবস্থা অপব্যবহার করা হলে, প্রতিলিপি তৈরি করা হলে, অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে কিংবা উচ্চমাত্রার স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে কাজ করতে দেওয়া হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পাঁচ বছর আগে প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই, তার বোন ড্যানিয়েলা আমোদেই এবং আরও পাঁচজন মিলে অ্যানথ্রোপিক প্রতিষ্ঠা করেন। চলতি বছরের জুনে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ইচ্ছার কথা জানায়।
এরপর অ্যানথ্রোপিকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআইও একই ধরনের পরিকল্পনার কথা জানায়। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওপেনএআইয়ের তালিকাভুক্তি আগামী বছরের শুরুর দিকে হতে পারে।
দুই প্রতিষ্ঠানের এসব ঘোষণার পর কিছুটা স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্টকে ঘিরে সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে এসেছে। বর্তমান ও সাবেক কর্মীরাও সতর্ক করেছেন, এআই প্রযুক্তি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এআই সরঞ্জামের কারণে মানবজাতির সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকানোর সক্ষমতা যথেষ্ট নয়।
সোমবার (২৬ অেক্টোবর) অ্যানথ্রোপিক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা প্রকাশ করার দিনই এলভিস প্রিসলির সংগীতের স্বত্বাধিকারীরা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, ক্লড চ্যাটবটকে প্রশিক্ষণ দিতে অ্যানথ্রোপিক রক অ্যান্ড রোল তারকা প্রিসলির শত শত গান ব্যবহার করেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি