
তীব্র যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগ, ইরানের লক্ষ্য কী?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪২

ব্রাজিলে এক নারীর প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেছিলেন ৪৯ বছর বয়সি এডিমার মার্টিন্স। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলে জেসিকা অলিভেইরা নামে এক নারীর প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেছিলেন ৪৯ বছর বয়সি এডিমার মার্টিন্স। সেই স্বপ্ন পূরণে নিজের সব সম্পদ বিক্রি করে প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল (১৯৩১ কিলোমিটার) পথ পাড়ি দিয়ে ব্রাজিলের বেলো হরিজন্তে শহরে পৌঁছান তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, যে নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে ভেবেছিলেন, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্বই নেই। ওই নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।
ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানিয়াও রাজ্যের বাসিন্দা মার্টিন্স পেশায় একজন ইটের গাঁথুনির কাজ করা শ্রমিক। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি মিরান্তে-কে তিনি জানান, ২০২০ সালে প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা, যিনি ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ নামেও পরিচিত, তার একটি অ্যাকাউন্ট দেখতে পান।
অ্যাকাউন্টটিতে এক নারীর খামারকেন্দ্রিক গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করা হতো। সেখানে অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখেরও বেশি ছিল বলে জানা গেছে। ভিডিওগুলোতে ওই নারী পুরুষদের তার সঙ্গে খামারে এসে বসবাসের আমন্ত্রণ জানাতেন। পাশাপাশি থাকার জায়গা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিতেন।
মায়ের মৃত্যুর পর একাকিত্বে ভুগছিলেন মার্টিন্স। নতুন করে জীবন শুরু করার আশায় তিনি ওই নারীর প্রতিশ্রুতিকে বিশ্বাস করেন। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের খামারে থাকার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
একপর্যায়ে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন মার্টিন্স। গত ৯ অক্টোবর যাত্রার খরচ জোগাতে নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুসারে, বাসে একদিনেরও বেশি সময় ভ্রমণের পর ১১ অক্টোবর শহরটিতে পৌঁছান মার্টিন্স। কিন্তু শহরে পৌঁছানোর পরই তার স্বপ্ন ভেঙে যায়। ওই নারীর ছবি সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তাকে খুঁজতে থাকেন তিনি। স্থানীয় লোকজনকে ছবিটি দেখিয়ে পরিচয় জানতে চাইলেও কেউ তাকে চিনতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে গিয়ে সাহায্য চান মার্টিন্স। সেখানেই তাকে জানানো হয়, জেসিকা নামে ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি ভুয়া। পরে তিনি বুঝতে পারেন, যাকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তিনি আসলে এআই দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।
এদিকে ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা ব্যক্তি পরে স্বীকার করেন, চরিত্রটি এআই দিয়ে তৈরি। তবে মার্টিন্সের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
ওই অ্যাকাউন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘স্পষ্ট বিষয়টি জানাতেই আমি এখানে এসেছি, আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। এই প্রোফাইল ব্যবহার করে আমি কখনো কারও সঙ্গে কথা বলিনি। উদ্দেশ্য ছিল অ্যাকাউন্টের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সেটি বিক্রি করা। ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে কথা বলিনি, কাউকে বেলো হরিজন্তে আসতেও বলিনি। এখানে যা ঘটেছে, তা দেখে আমি নিজেও বিস্মিত।’
যাত্রাপথে নিজের সব অর্থ ব্যয় করে ফেলায় শহরে এসে বিপাকে পড়েন মার্টিন্স। পরে তিনি স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষের সহায়তা চান। সমাজকল্যাণকর্মীরা তাকে খাবার, গোসলের সুবিধা এবং শহর ছাড়ার জন্য বাসের টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন।
তবে এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পরও জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। বর্তমানে তিনি পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে থাকছেন। ভবিষ্যতে আবারও বেলো হরিজন্তে ফিরে গিয়ে এমন কাউকে খুঁজতে চান, যার সঙ্গে স্থায়ীভাবে সংসার গড়া সম্ভব।
মার্টিন্স বলেন, ‘আমি তাকে খুঁজে পাইনি। কিন্তু অন্য কাউকে খুঁজে পাব। আমি যে জায়গায় গিয়েছিলাম, সেখানেই আবার যাব।’
দ্য সান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মার্টিন্স তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি বেলো হরিজন্তে গিয়ে এমন এক নারীর সঙ্গে দেখা করার আশা করেছিলেন, যাকে পরে এআই-নির্মিত কাল্পনিক চরিত্র হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই-নির্মিত পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের আবেগ ও একাকিত্বকে কাজে লাগানোর ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র: এনডিটিভি