
সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারায় দেখতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী
প্রতিবেদক, পিরোজপুর
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩৫

অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামাতে দেয়া হয়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ। ছবি: সময় সংবাদ
পিরোজপুরে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতের বিরুদ্ধে।
মৃতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জামায়াত নেতাদের বাধার মুখে তাকে প্রকাশ্যে গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গোপনে গার্ড অব অনার দিয়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন।
মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদরের শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
পরিবার সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মানিক পশারী পলাতক ছিলেন। পরে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে চলে যান। দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য তার মরদেহ পিরোজপুরে নেওয়া হয়। দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলে জামায়াত নেতারা বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, তাঁকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে তার মরদেহ দাফন করতেও দেওয়া হবে না।
মানিক পশারীর মেয়ে জামাই ফারুক হোসেন বলেন, ‘সকাল দশটায় মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী মারা গেছেন। দুপুর ১২টায় আমরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এর কাছে আসলে উনি আমাদের গার্ড অব অনারের কথা বলে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখেন। উনি একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে কোনো বরফ বা চা পাতা ছাড়া ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পরে গোপনে কোনোমতে গার্ড অব অনার দেয়া হয়েছে। আমরা কীভাবে লাশ দাফন করবো তার কোনো দায়িত্ব নেয়নি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। লাশ দাফন নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।’
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মানিক পশারী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার বাদী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম সাক্ষী। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট মানিক পশারী পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অপরাধের অভিযোগে একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে এই অভিযোগটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে বিচার চলাকালে মানিক পশারী রাষ্ট্রপক্ষের ৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। তিনি নিজেকে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দাবি করেছিলেন।