
কখন থেকে কালো বিড়ালকে অশুভ ভাবা হয়?
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১৬

ক্যারল ফেয়ার। ছবি: সংগৃহীত
বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা, তারই অনন্য উদাহরণ ক্যারল ফেয়ার। ৮৩ বছর বয়সে অবসরে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইনসের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সক্রিয় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট।
দীর্ঘ ৬৩ বছরেরও বেশি সময় আকাশে যাত্রীসেবা দিয়ে কাটিয়েছেন তিনি। প্রজন্মের পর প্রজন্মের যাত্রীর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তার পেশাগত অভিজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা।
গত ২৬ অক্টোবর স্থানীয় সময় লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লটগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৭৩৩-এ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ফেয়ারের দীর্ঘ কর্মজীবন।
বাংলাদেশ সময় ২৭ অক্টোবর রাতে শার্লট বিমানবন্দরে পৌঁছায় উড়োজাহাজটি। সেখানে তাঁকে জানানো হয় ব্যতিক্রমী সম্মান। উড়োজাহাজটিকে পানি ছিটিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর আয়োজন করা হয়—সাধারণত পাইলটদের শেষ ফ্লাইটে এমন আয়োজন দেখা যায়।
ফেয়ারের শেষ ফ্লাইটের রুটটিও ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। লন্ডন-শার্লট রুটটি তিনি নিজেই বেছে নিয়েছিলেন। কারণ, ১৯৮৭ সালের ১৫ জুন পিডমন্ট এয়ারলাইনসের শার্লট-লন্ডন রুটের প্রথম ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই রুটেই এবার বিদায় জানালেন আকাশের দীর্ঘ পথচলাকে।
ফেয়ারের পেশাজীবনের শুরু ১৯৬৩ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের জনসন সিটিতে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে চাকরির খোঁজে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন তিনি।
সেখানে পিডমন্ট এয়ারলাইনসের এক স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কাজের সুযোগ পান।
তবে তার যাত্রাপথ সব সময় মসৃণ ছিল না। কর্মজীবনের শুরুতে আমেরিকান এয়ারলাইনসে আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন ফেয়ার।
ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ওয়ান মাইল অ্যাট আ টাইম’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় তাকে জানানো হয়েছিল, তিনি আমেরিকান এয়ারলাইনসে কাজ করার উপযুক্ত নন।
অথচ দীর্ঘ পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সেই এয়ারলাইনসেরই সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সক্রিয় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে অবসরে গেলেন তিনি। পিডমন্ট এয়ারলাইনসে যাত্রা শুরু করে পরে ইউএস এয়ারওয়েজ হয়ে আমেরিকান এয়ারলাইনসে কাজ করেছেন ফেয়ার।
আমেরিকান এয়ারলাইনসে প্রায় ৩০ হাজার ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রয়েছেন। তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় শীর্ষে ছিলেন ফেয়ার। যদিও তালিকায় তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ আরও দুজন কর্মী রয়েছেন, তারা বর্তমানে আর ফ্লাইট পরিচালনা করেন না।
আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে না গেলেও সক্রিয়ভাবে উড়োজাহাজে দায়িত্ব পালন করছেন না তারা। এ কারণেই ফেয়ারকে এয়ারলাইনসটির সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সক্রিয় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বলা হয়।
ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের পেশায় জ্যেষ্ঠতার গুরুত্ব অনেক। এর ওপর নির্ভর করে কাজের সময়সূচি ও নির্দিষ্ট রুটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ। নিজের অর্জন নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে ফেয়ার বলেছেন, প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর মধ্যে তিনি এক নম্বরে পৌঁছেছেন। তার ভাষায়, ‘এর চেয়ে ওপরে ওঠার আর কোনো জায়গা নেই।’
ফেয়ার যখন পেশায় যোগ দেন, তখন নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের কর্মপরিবেশ ছিল আজকের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর। বিভিন্ন এয়ারলাইনসে বিয়ের ওপর বিধিনিষেধ, চেহারা ও শারীরিক গঠন নিয়ে কঠিন শর্ত এবং নির্দিষ্ট বয়সে চাকরি ছাড়ার নিয়ম চালু ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাত্র ৩২ বছর বয়সেই কর্মজীবনের ইতি টানতে হতো নারীদের।
এসব বৈষম্যমূলক নিয়মের বিরুদ্ধে নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের দীর্ঘদিন লড়াই করতে হয়েছে। ওজন, বিয়ের বিধিনিষেধ ও বয়সের কারণে চাকরি হারানোর মতো নিয়মের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করেছেন, ফেয়ার তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তার নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনও সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। যে পেশায় একসময় নারীদের কর্মজীবন নির্দিষ্ট বয়সের গণ্ডিতে আটকে রাখা হতো, সেখানে তিনি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সূত্র: ইয়াহু ট্রাভেল