
রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতির
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২১:১১

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ তথা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে দুই বছর ধরে রিপাবলিকানদের একক নিয়ন্ত্রণের পর ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়া এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দিয়েছে রিপাবলিকানরা। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, এসব ক্ষমতা আইনপ্রণেতাদের হাতে থাকার কথা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ কারণে ডেমোক্র্যাটরা বারবার প্রস্তাব দিয়েছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া বন্ধ করতে হবে।
এ ধরনের একটি প্রস্তাব কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার সমর্থনেও পাস হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করে।
প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমিয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা।
এর মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করতে পারেন তারা। পাশাপাশি যুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারবেন।
রাশিয়ার সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইউক্রেনকে সরাসরি আর্থিক ও সামরিক সহায়তা অনেকটাই বন্ধ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের অনেক আইনপ্রণেতাই ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার পক্ষে।
সর্বশেষ রাশিয়ার ডিজেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে কংগ্রেসের অনেক সদস্যকে ক্ষুব্ধ করেছেন ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহ আগেই রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন তিনি। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় কোন প্রস্তাবের ওপর কখন ভোট হবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা।
এর ফলে ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তা অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এমনকি ট্রাম্প ভেটো দিলেও কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে সেই ভেটো বাতিল করা সম্ভব হতে পারে। ট্রাম্পের অন্যান্য পদক্ষেপও বাধাগ্রস্ত করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা।
উদাহরণ হিসেবে নিউইয়র্কের প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকসের কথা বলা যায়। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় তিনি পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হতে পারেন। রাশিয়ার ডিজেল আবার বিশ্ববাজারে ফিরিয়ে আনার ট্রাম্পের পরিকল্পনা ঠেকাতে তিনি দ্বিদলীয় একটি বিল উত্থাপন করেছেন।
গাজা যুদ্ধে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের কারণে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে দেশটির প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই যুদ্ধে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অব্যাহত সহিংসতা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে রিপাবলিকানদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
ডেমোক্র্যাটরা চাইলে ইসরাইলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা সীমিত কিংবা পুরোপুরি বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে পারবেন। সর্বশেষ অর্থবছরে ইসরাইলকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি।
চলতি গ্রীষ্মে প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় অর্ধেক ডেমোক্র্যাট সদস্য ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। যারা ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের কয়েকজনও ইসরাইলকে ভারী বোমার মতো অস্ত্র সরবরাহ সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মধ্যে গ্রেগরি মিকসও রয়েছেন।
ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের তুলনায় সামরিক ব্যয় সীমিত করার পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান বেশি জোরালো। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ না করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের বরাদ্দ কমানোর কারণ দেখিয়ে সিনেটে এ প্রস্তাব আটকে দেন ডেমোক্র্যাটরা।
এছাড়া কংগ্রেসের অনুমোদন পাওয়া কয়েকশ’ কোটি ডলারের বৈদেশিক সহায়তাও আটকে দিয়েছেন বা বাতিল করেছেন ট্রাম্প। এসব কাটছাঁট নিয়ে ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাটরা আবারও সেই অর্থ বরাদ্দ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে পারেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স