
সাবেক এমপি আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত
শামসুল আরেফীন
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৫৮

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুর-১০ চত্বরে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা। ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অধিকার আদায়ে রাজপথে নামলেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন পোশাকশ্রমিকরা। প্রাণ হারিয়েছেন অনেক শ্রমিক, এমনকি দুই শ্রমিক নেতাও। তবে এবার মজুরি বাড়াতে বিএনপি সরকার আন্তরিক বলে মনে করছেন শ্রমিক নেতারা। তাদের আশা, আগামী জানুয়ারিতেই নতুন মজুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে অধিকার আদায়ে বারবার রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন শ্রমিকরা। আন্দোলন দমনে তাদের ওপর চালানো হয়েছে দমন-পীড়ন। ২০১২ সালে আশুলিয়ায় শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারান শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম।
একইভাবে, ২০২৩ সালে গাজীপুরে বকেয়া বেতন ও বোনাস আদায়ের আন্দোলনে নিহত হন আরেক শ্রমিক নেতা শহীদুল ইসলাম। ওই বছরই নিহত হন আরও তিন শ্রমিক।
পোশাক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের তথ্যমতে, গত চার বছরে দেশের তৈরি পোশাক খাতে শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ছয়টি। বকেয়া বেতন ও বোনাস আদায়, মজুরি বৃদ্ধি এবং বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে ২০২২ সালে ১১৫টি, ২০২৩ সালে ১১০টি, ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ৪০৬টি এবং ২০২৫ সালে ৩৭৫টি শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটে।
সবশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আবারও আন্দোলনে নামেন পোশাকশিল্পের শ্রমিকরা। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া বিক্ষোভ চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও মিরপুরেও ছড়িয়ে পড়ে।
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে গত রোববার (১ নভেম্বর) সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মজুরি বোর্ড শাখা। এবারের মজুরি নির্ধারণে সরকারের সদিচ্ছা দেখছেন শ্রমিক নেতারা।
বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে আমার কাছে এ পর্যন্ত সরকারের নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান। অতীতে কারখানা মালিকদের যে ধরনের অনমনীয় মনোভাব ছিল, সেখান থেকে বর্তমানে মালিকপক্ষ অনেকটা উদার।’
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘মজুরি নিয়ে বোর্ড যত দ্রুত ঘোষণা দেবে, ততই শ্রমিকদের মধ্যে একটা পরিবেশ ফিরে আসবে।’
মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় সপ্তম মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ ও অবরোধে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন দেখছেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। জানুয়ারিতে শ্রমিকদের হাতে নতুন মজুরি তুলে দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা কাজে ফিরুন। আপনাদের মজুরির বিষয়ে আমরা কাজ করছি। ফেডারেশনের নেতৃত্বের বাইরে যদি এখন আন্দোলন-সংগ্রাম করেন, এর দায়দায়িত্ব কেউ নেবে না।’
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন, শ্রমিকের স্বার্থের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে মজুরির বিষয়ে একটা শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি টানা। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে।’
ভবিষ্যতে বিক্ষোভ-আন্দোলন নিরসনে শ্রমিক-মালিকের আলোচনার পথ সহজ করার তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা যেহেতু কারখানা পর্যায়ে সবসময় কার্যকর থাকে না। এজন্য তারা রাস্তায় নেমে আসে। আসলে শ্রমিকরা আসতে বাধ্য হয়। যখন শ্রমিকরা রাস্তায় নামে, তখন সেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠী সুযোগ নেয়। শ্রমিক রাস্তায় না নামার পরিবেশ ঠিক করা গেলে অন্যরা সুযোগ নিতে পারবে না।’