
ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলা হতে পারে: ট্রাম্প
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৪১

রুশ বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ত্রাণ সহায়তা কেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন ইউক্রেনীয় সেনারা। ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ও পাশের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাশিয়ার বোমা হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামে এ হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
তবে বিবিসি জানিয়েছে, ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে রাশিয়ার হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ হামলাকে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।
পাশাপাশি ৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের প্রধান মিখাইলো সেমিকিন। তিনি জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামে অন্তত ৯টি তিন হাজার কেজি ওজনের আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জরুরি সেবা বিভাগের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকারী দলের দুই সদস্য ও পুলিশের চার কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে উদ্ধারকারী দলের দুই সদস্যও রয়েছেন।
সোমবার রাতে দেওয়া ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, রুশ বাহিনী প্রথমে গ্রামের একটি স্কুলে বোমা হামলা চালায়। স্কুলটি আশ্রয়কেন্দ্র এবং মানবিক সহায়তা বিতরণের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
তিনি জানান, যুদ্ধের সম্মুখসারির কাছাকাছি হওয়ায় স্কুলটিতে কোনো ক্লাস চলছিল না। জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের প্রধান শহরটির দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত গ্রামটিতে ওই স্কুলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশ্রয় নিতেন এবং ত্রাণ সংগ্রহ করতেন।
জেলেনস্কি বলেন, ‘মানুষ যখন সেখানে পৌঁছাতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই রাশিয়া প্রথম দফায় কয়েকটি বোমা নিক্ষেপ করে। এরপর দ্বিতীয় দফায় আবারও বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়, এবার আশ্রয়কেন্দ্রটিতে। এটি ছিল একটি জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা।’
রাত নামার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তল্লাশি শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা। স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রকাশ করা ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, টর্চলাইট হাতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষে নিখোঁজদের খুঁজছেন তাঁরা।
সোমবার সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান চলার সময় হামলার শিকার এলাকায় নতুন করে ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। এতে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয় বলে জানিয়েছেন জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের সামরিক কর্মকর্তা মিখাইলো সেমিকিন।
জেলেনস্কি বলেন, কোমিশুভাখার বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহেই ওই কেন্দ্রে মানবিক সহায়তার প্যাকেজ সংগ্রহ করতে জড়ো হন। বিষয়টি রুশ বাহিনীর অজানা থাকার কথা নয়।
তার অভিযোগ, গত সপ্তাহে দক্ষিণাঞ্চলীয় রুশ অধিকৃত ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে মানবিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে রাশিয়া বেসামরিক মানুষ হত্যা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সেখানে ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।
জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়া বারবার ইউক্রেন এবং এখানে বিদ্যমান সবকিছুর প্রতি তাদের ঘৃণা প্রদর্শন করছে। রাশিয়া যদি সত্যিই উত্তেজনা কমাতে চাইত, তাহলে ওলেশকির পরিস্থিতির পর আরও মানবিক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ ছিল। আমরা এমন প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু রাশিয়া মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে।’
গত সপ্তাহের ওই যুদ্ধবিরতির ফলে রুশ অধিকৃত ওলেশকি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধের পাঁচ বছরে এটাই ছিল সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধবিরতি। এই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এদিকে আপাতত এ ধরনের আর কোনো মানবিক অভিযান পরিকল্পনায় নেই বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সোমবার জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আলোচনা আবারও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। এদিকে ট্রাম্প ক্রমেই মস্কোর অবস্থানের প্রতি ঝুঁকছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কিয়েভ ও তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা।