
ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে পাকিস্তান সরকার, অভিযোগ ছেলে সুলাইমানের

ইসরাইলের ওতজমা ইয়েহুদিত দলের নেতা ও উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ছবি: রয়টার্স
ইসরাইলের এবারের নির্বাচনে ভালো ফল করা ফিলিস্তিনি আরব দলগুলোর নেতাদের গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
ফিলিস্তিনি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে বিদেশি অর্থ গ্রহণের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বেন-গভির লিখেছেন, ‘কাতারের অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ইসরাইলের নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের আরব দলগুলোর নেতাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া উচিত।’
এদিকে ইসরাইলের নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তদন্ত করতে শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিকে আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোআম সলবার্গ। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
আরেক ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যানের নির্দেশের পর নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়ন ও হস্তক্ষেপের সন্দেহ তদন্ত শুরু করেছে শিন বেত।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ইসরাইলের নির্বাচন ‘চুরি’ করার অভিযোগ তোলার পর এ তদন্তের নির্দেশ দেয়া হলো। দলটি এসব অভিযোগ তদন্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানায়।
ক্ষমতাসীন দলটির দাবি, আরব দলগুলো কাতারের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে তারা ‘শত শত সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ’ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি (সিইসি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হয়। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। অর্থাৎ প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন।
কট্টর ডানপন্থি মিত্র ইতামার বেন-গভিরের ওতজমা ইয়েহুদিত এবং বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়নিজম পার্টির সমর্থন কমেছে। দল দুটি পেয়েছে যথাক্রমে ৭ ও ৬টি আসন।
নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ফিলিস্তিনি আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ‘রা’আম ও ‘জয়েন্ট লিস্ট’। পূর্বাভাস অনুযায়ী, তারা রেকর্ড ১৯টি আসন জিততে পারে, যা বর্তমান সম্মিলিত ১০টি আসনের প্রায় দ্বিগুণ।
বিরোধী ও ফিলিস্তিনি আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসন ৬৫টিতে দাঁড়াচ্ছে যা জোট সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট। তবে বিরোধী দল ও ফিলিস্তিনি দলগুলো জোট সরকার গঠনের পক্ষে একসঙ্গে কাজ করবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
যদিও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেছেন জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্য অর্জনে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত তার দল।
পার্লামেন্টে আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলানও। স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৬ সালের নির্বাচনে হেরে গেছেন।