
রাশিয়ায় ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ভুলে ৯.৯ মাত্রার সতর্কতা জারি জাপানে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৩

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। ছবি: এপি
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তিনি গত বছর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন। বলেন, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সিরিয়ায় দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা বন্ধের বিষয়ে আল-শারার সঙ্গে তার সরাসরি ফোনালাপ হয়।
নেতানিয়াহুর দাবি সত্য হলে এটাই হবে কোনো ইসরাইলি নেতার সঙ্গে কোনো সিরীয় নেতার প্রথম কোনো সরাসরি যোগাযোগ।
ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান (কেএএন)-এ প্রচারিত ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আল-শারাকে ফোন করেছিলাম। কথোপকথনটি খুব সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি ছিল। এরপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হয়ে যায়।’ ইসরাইলের দ্রুজ সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
তবে ঠিক কবে ওই ফোনালাপ হয়েছিল, তা উল্লেখ করেননি নেতানিয়াহু। তবে তার বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দক্ষিণ সিরিয়ার সুয়েইদা প্রদেশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলাকালে এই যোগাযোগ হয়েছিল।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে সিরিয়ার সুয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বেদুইন যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে এতে সিরিয়ার সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী এবং কয়েকটি উপজাতীয় গোষ্ঠীও জড়িয়ে পড়ে। সিরিয়া সরকারের গঠিত একটি তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ওই সহিংসতায় ১ হাজার ৭৬০ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
দ্রুজ সম্প্রদায়ের একটি অংশ ইসরাইলেও বসবাস করে। সংঘর্ষের সময় তাদের সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে সামরিক হস্তক্ষেপ করে ইসরাইল। দেশটির সেনাবাহিনী সুয়েইদা ও দামেস্কে সিরীয় সরকারের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
পরে সরকারি বাহিনী সুয়েইদা শহর থেকে সরে যায় এবং সেখানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে সিরিয়ার সরকার জানায়, ওই সহিংসতার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পরই সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির সরকারি সূত্র জানায়, সিরিয়ার দ্রুজ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা কিংবা ইসরাইলের প্রচার ও নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টা দামেস্ক ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান’ করে।
তবে নেতানিয়াহু ও আল-শারার মধ্যে ফোনালাপ হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সিরীয় সূত্রটি নিশ্চিত বা অস্বীকার, কোনোটিই করেনি।
সিরিয়া ও ইসরাইলের সম্পর্কের ইতিহাস মূলত যুদ্ধ, ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ এবং দীর্ঘদিনের বৈরিতার। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। কয়েক দশক ধরে একাধিক যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে সম্পর্ক আরও জটিল হয়েছে।
সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলো
১৯৪৮: ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর প্রথম আরব-ইসরাইল যুদ্ধে সিরিয়া ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয়। ১৯৪৯ সালে দুই দেশ যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
১৯৬৭: ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরাইল সিরিয়ার কাছ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোলান মালভূমির একটি বড় অংশ দখল করে। ভূখণ্ডটি দুই দেশের বিরোধের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়।
১৯৭৩-১৯৭৪: গোলান মালভূমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সিরিয়া আবারও ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয়। ১৯৭৪ সালে দুই দেশ সেনা প্রত্যাহার ও বিচ্ছিন্নকরণ চুক্তি করে। গোলান অঞ্চলে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি হয়নি।
১৯৮১: ইসরাইল গোলান মালভূমিকে নিজের ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এই পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করে।
১৯৯০-এর দশক থেকে ২০০০-এর দশক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা হয়। তবে গোলান মালভূমি থেকে ইসরাইলের প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা সফল হয়নি।
২০১১-২০২৪: সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে ইসরাইল সিরিয়ার ভেতরে ইরান-সমর্থিত বাহিনী ও হিজবুল্লাহর সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বহুবার হামলা চালায়। বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর এই সামরিক তৎপরতা আরও বাড়ে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর: আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরাইল জাতিসংঘ-নিয়ন্ত্রিত বাফার জোনে সেনা পাঠায় এবং সিরিয়ার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
২০২৫-২০২৬: উত্তেজনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে দুই দেশের আলোচনা এগিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্যারিসে আলোচনার পর সামরিক উত্তেজনা কমাতে যোগাযোগের একটি যৌথ ব্যবস্থা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে গোলান মালভূমি ও সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরাইলি সেনাদের অবস্থান নিয়ে বিরোধ রয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল