
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শারার সঙ্গে সরাসরি ফোনালাপের দাবি নেতানিয়াহুর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:২৫

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ আল-মাশিক লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের সঙ্গে বিরোধ নিরসন ও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ওমানে প্রস্তাবিত বৈঠকে বসতে রাজি হয়নি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হুতিরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে রিয়াদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তি এবং উত্তেজনার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিল সৌদি আরব।
তিনি বলেন, ‘হুতিদের সঙ্গে আমাদের সরাসরি যোগাযোগের চ্যানেল রয়েছে। এসব আলোচনায় ওমান মধ্যস্থতাকারী নয়, বরং আলোচনার আয়োজন ও সমন্বয়ে সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই উত্তেজনা বৃদ্ধির শুরুতে আমরা তাদের ওমানের মাস্কাটে দেখা করতে বলেছিলাম, কিন্তু তারা রাজি হয়নি। কয়েক সপ্তাহ আগে এটাই ছিল শেষ যোগাযোগ।’
ক্রিমলির বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও হুতিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে সৌদি আরব। বিরোধ নিরসনে তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতার পরিবর্তে সরাসরি আলোচনার পথেই এগোতে চাইছে রিয়াদ।
চলমান সংঘাতের অবসানে সংলাপের বিষয়ে ইরান সরকার ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলেও সৌদি আরব তেহরানের কাছে মধ্যস্থতার কোনো অনুরোধ জানায়নি বলে জানিয়েছেন ক্রিমলি।
এদিকে হুতি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তাইজ শহরের দক্ষিণে আল-মিসরাখ জেলার ধি আল-বারিহ ও জাবা এলাকায় হুথি অবস্থানে দুটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাইজ সামরিক কমান্ডের এক ইয়েমেনি সামরিক সূত্র।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে ছোড়া একটি ড্রোন জোট বাহিনী প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ আল-মাশিক লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার। তবে হতাহতদের পরিচয় জানানো হয়নি।
হামলার পর তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-এরিয়ানি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হুতিরা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য কর্মকর্তারা নিরাপদে রয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর দেহরক্ষীদের মধ্যে দুজন নিহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলার পর এডেনে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, গত ১১ দিনে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ২০ বার হামলা চালিয়েছে হুতিরা।
এছাড়া দেশটির আরও কয়েকটি বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও বন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। জোটের দাবি, এসব হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
আল-জাজিরার সাংবাদিক ইউসুফ মাওরি সানা থেকে জানিয়েছেন, ইয়েমেন সরকারের সদর দফতর লক্ষ্য করে হুতিদের এ ধরনের হামলা এটাই প্রথম। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এডেনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে।
ইউসুফ মাওরি বলেন, এই হামলা দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। এমন সংঘাত শুরু হলে আঞ্চলিক অন্যান্য শক্তিও এতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
তথ্যসূত্রথ এএফপি, আল জাজিরা