
সাড়ে ৯ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব
প্রকাশ: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩:৪৬

জার্মান পার্লামেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে দেশটির জাতীয় পার্লামেন্ট ভবনের (বুন্দেসট্যাগ) সামনে জার্মানির জাতীয় পতাকা নামিয়ে সেখানে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে দিয়েছেন যুদ্ধবিরোধী অধিকারকর্মীরা। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন ও যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে বার্লিন সরকারের বিতর্কিত অবস্থান ও নীরবতার প্রতিবাদে এই অভিনব ও জোরালো কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্লিনে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে থাকা জার্মানির পতাকা নামিয়ে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করেন একদল মানবাধিকার ও যুদ্ধবিরোধী কর্মী। ‘পিসফুলি এগেইনস্ট জেনোসাইড’ (শান্তিপূর্ণভাবে গণহত্যার বিরুদ্ধে) নামের একটি নাগরিক অধিকার সংগঠন এই প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় জার্মান সরকারের ক্রমাগত নীরবতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা না জানানোর প্রতিবাদেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
বিবৃতিতে অধিকারকর্মীরা বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই গণহত্যা সংঘটিত হোক না কেন, তা আমাদের সবাইকে স্পর্শ করে। মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ করার যে ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে, তা থেকে কোনোভাবেই আমরা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারি না।’
জার্মানির হলোকাস্ট-পরবর্তী বিখ্যাত নীতিবাক্য ‘নেভার এগেইন’ (আর কখনও নয়)-এর প্রসঙ্গ টেনে সংগঠনটি দেশটির পররাষ্ট্রনীতির দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা বলে, ‘সরকারগুলো যদি নিজেরাই আন্তর্জাতিক আইন না মানে, তবে সেই আইনের মূল্য কী থাকে? মানবাধিকার যদি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য না হয়, তবে সেই অধিকারের অর্থই বা কী? চোখের সামনে যখন আস্ত একটি জনগোষ্ঠীকে নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়, তখন নাগরিক সমাজ হিসেবে আমাদের নিজেদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে এবং প্রতিটি মানুষের জীবন ও মুক্তির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।’
উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর দীর্ঘ আগ্রাসনে জার্মানির একপেশে ইসরাইলপন্থি অবস্থান এবং দেশটির অভ্যন্তরে ফিলিস্তিনপন্থি জমায়েত ও স্লোগানের ওপর দফায় দফায় বিধিনিষেধ আরোপ নিয়ে ইউরোপজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। খোদ জার্মানির ভেতরেই সচেতন নাগরিক, অধিকারকর্মী ও ছাত্রসমাজ যুদ্ধবিরতির দাবিতে লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে। দেশটির কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টের সামনে জার্মানির পতাকা নামিয়ে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়ানোর এ ঘটনা দেশটির নীতিনির্ধারকদের ওপর যুদ্ধবিরোধী জনমতের চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।