
ইউরোপের ১০ দেশের সুপারমার্কেটের ফ্রিজ-ফ্রিজারে সাইবার হামলা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৪৭

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ইসরাইলকে বছরে যে চার বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় তা বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশের জনগণের তীব্র সমালোচনার মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সমঝোতা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।
দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় সামরিক সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবছর দেশটিকে সামরিক সহায়তা হিসেবে কয়েক বিলিয়ন ডলার দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরাইলের এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নের প্রয়োজন নেই। তবে দেশটির যদি মার্কিন সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে তা অব্যাহত রাখার পক্ষে তিনি।
হোয়াইট হাউস কিংবা নেতানিয়াহুর কার্যালয়, কোনো পক্ষই রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সমর্থন কমেছে, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে।
কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জুন মাসের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ ভোটার এবং ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে। ২০১৭ সালে প্রথমবার একই প্রশ্ন করা হলে এ হার ছিল যথাক্রমে ১৬ ও ২০ শতাংশ।
ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন ব্যাপকভাবে কমেছে। ইসরাইলের সমালোচক প্রার্থীরা ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হচ্ছেন। এমনকি মধ্যপন্থী আইনপ্রণেতারাও ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের সমর্থনকে ক্রমেই চ্যালেঞ্জ করছেন।
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হবেন আবদুল এল-সাইয়েদ। তিনি ইসরাইলকে নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত দেশটির নাগরিকদের।
ট্রাম্প বলেন, বামপন্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থায়নকে ‘অন্যায্যতার সংকেত’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। এমনটা তিনি হতে দিতে পারেন না। ওয়াশিংটন কেন ইসরাইলকে অর্থ দেওয়া বন্ধ করছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বিশেষভাবে এল-সাইয়েদের নাম উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘কারণ তাদের (ইসরাইল) এই অর্থের প্রয়োজন নেই। আর তাদের প্রয়োজন না থাকলে এল-সাইয়েদের মতো উন্মাদদের কাছ থেকে আমাদের কেন সমালোচনার তির সহ্য করতে হবে? এটি একটি বাজে, খুবই বাজে রাজনৈতিক প্রচারণার বিষয়।’
ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের কয়েকজন সদস্যও ইসরাইলের সমালোচনায় ক্রমেই সরব হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ইসরাইল ট্রাম্পকে ভুল বুঝিয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ইসরায়েল তাকে বিশ্বাস করিয়েছে যে যুদ্ধে ইরানকে সহজেই পরাজিত করা সম্ভব।
২০২০ সালে মার্কিন কংগ্রেস ইসরাইলের জন্য অর্থায়নের অনুমোদন দিয়ে একটি আইন পাস করে। তবে অর্থ ছাড় ও বিতরণের জন্য সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদকে এখনো প্রতিবছর পৃথক বরাদ্দ বিল পাস করতে হয়।
অক্টোবরে ইসরাইলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন, আমি যে সহায়তা দুবার আদায় করেছি, অর্থাৎ প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া কয়েক হাজার কোটি ডলারের সহায়তা আমরা পেতে থাকব, তাহলে নিজেদের প্রস্তুত করুন এবং মেনে নিতে অভ্যস্ত হন যে এটা আর ঘটবে না। কারণ, আমেরিকা বদলে গেছে।’