
নিরাপত্তাহীনতায় বাঙ্কার-সুবিধাযুক্ত প্রাসাদে থাকছেন সৌদি যুবরাজ!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৩

৮ অক্টোবর হুতির ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠছে। ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি আরবে ভ্রমণের বিষয়ে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে বেশ কয়েকটি দেশ।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সৌদি আরবে ভ্রমণ না করার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। এর আগে একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। খবর আল জাজিরার।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির নাগরিকদের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এড়িয়ে চলা উচিত। সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তা পুনর্বিবেচনা করারও পরামর্শ দিয়েছে বিভাগটি।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নাগরিকদের সৌদি আরবের রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দর এবং নাজরান, জিজান ও আসির প্রদেশে কোনো কারণেই ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের অন্য এলাকাগুলোতেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলেছে।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সৌদি আরবে ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে দেশটির নাগরিকদের পরামর্শ দেয়। ইরান ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এ সতর্কতা জারি করা হয়।
এদিন কানাডার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগ সৌদি আরবের যেকোনো এলাকায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেয়। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবে অবস্থানরত নাগরিকদের জরুরি কাজ ছাড়া দেশটি ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি যারা সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ভ্রমণ বাতিল করতে বলা হয়।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দফতর নাগরিকদের জেদ্দা ও দাম্মামে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যতীত অন্য বিমানবন্দরগুলোও এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয় দফতরটি।
এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পাঁচটি হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এসব সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) জানিয়েছে, রোববার হুতির একটি ক্ষেপণাস্ত্র কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হানলে একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
এর আগে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) একই বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
রোববারের হামলার আগে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হওয়া চারটি হামলার দায় স্বীকার করে হুথিরা। তবে সর্বশেষ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।
হামলার পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। হামলার কারণে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করা ফ্লাইট চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার জেদ্দা বিমানবন্দরে ১৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩৭৪টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্বাধীন বিশ্লেষক ও পরামর্শক ব্রেন্ডন সোবি বলেছেন, এসব হামলার কারণে পুরো অঞ্চল এবং এর বাইরেও বিমান চলাচলে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা অনুমান করার সময় এখনো আসেনি।
আলজাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে সোবি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনে সৃষ্ট সংকটের প্রভাব যেমন দেখা গেছে, তেমনি এই নতুন সংকটের প্রভাবও নির্ভর করছে এটি কত দিন স্থায়ী হয়, রিয়াদ বিমানবন্দর কত দিন বন্ধ থাকে এবং পুনরায় চালু হওয়ার পর কত দিন ও কী পরিমাণ বিধিনিষেধ বহাল থাকে, তার ওপর।’