
আমন মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ও দাম নির্ধারণ
মাহমুদ শামসুল আরেফিন
প্রকাশ: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩১

এনবিআর ভবনের ফাইল ছবি
আগামী সংসদ অধিবেশনেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুই ভাগ করার বিল তোলা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া ও পর্যালোচনা শেষে এ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটি এরইমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিলটি পাস হলে শুরু হবে সংস্কার বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ সংস্কার কার্যকর করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে কর প্রশাসনে গতিশীলতা ফিরবে এবং সুশাসন নিশ্চিত হবে। তবে একই সঙ্গে এনবিআরের দক্ষতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও কর আদায়ে স্বচ্ছতা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই এনবিআরকে দুই ভাগ করার দাবি জানিয়ে আসছেন বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিরা। এ সংস্কারের বিষয়ে চাপ রয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকেও।
অন্তর্বর্তী সরকার এ উদ্যোগ নিলেও আয়কর ও শুল্ক ক্যাডার কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরে ক্ষমতায় এসে রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে নতুনভাবে উত্থাপনের জন্য ‘সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করে বিএনপি সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কমিটির প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি নীতি বিভাগ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। আর বাস্তবায়ন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে।
কে এ ডিজাইন ওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, কর নির্ধারণের দায়িত্ব একটি বিভাগের হাতে এবং তা আদায়ের দায়িত্ব অন্য বিভাগের হাতে থাকলে স্বচ্ছতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার একসঙ্গে পাঁচ বছরের কর ও ভ্যাট আদায় করতে চাইলেও ব্যবসায়ীরা তা সঠিকভাবে দিতে রাজি আছেন। তবে আমাদের প্রত্যাশা, কোনো ধরনের বাধা বা হয়রানি ছাড়াই নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারব। এতে দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হবে।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যবস্থা চালু হলে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা পাবেন এবং দেশের উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিও পুরোপুরি নেয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়ায় যে বাধাগুলো রয়েছে, সেগুলো দূর করা গেলে এ লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাইফুর রহমান ফরহাদ বলেন, করদাতারা সময়মতো কর দিয়ে ব্যবসা করতে চান। তবে কিছু ব্যবসায়ী অনিয়ম করলেও তার দায় সবার ওপর চাপানো ঠিক নয়। কয়েকজনের অনিয়মের কারণে পুরো ব্যবসায়ী সমাজকে নেতিবাচকভাবে দেখা বা কর ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি করা উচিত নয়। ব্যবসায়ীরা কর দিতে চান। তবে আইনের অপপ্রয়োগে কোনো ব্যবসা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে আগামী ৯ নভেম্বর বসতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনেই বিলটি প্রস্তাব আকারে তোলা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে কর প্রশাসনে গতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত হবে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, কর প্রশাসন ও করনীতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর প্রশাসন ও নীতি বিভাগ গঠন করতে হবে। নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হলে যারা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সুযোগ পাচ্ছেন না, তারাও নতুন কাঠামো মেনে নেবেন। কারণ, তারা বুঝতে পারবেন, তাদের চেয়ে যোগ্য ব্যক্তিরাই দায়িত্ব পেয়েছেন।
সংসদে বিলটি পাস হলেও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে আরও সময় লাগতে পারে।