
গোপালগঞ্জে পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার ২৫
প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার পথে ১৪ বছরের এক তরুণীকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে শনিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সরাইল থানায় ৬ জনকে আসামি করে এই মামলা করেন।
মামলায় উল্লেখ করা আসামিরা হলেন, জাকির মিয়া (৩৩), নাঈম (২৪), সোহাগ মিয়া (২১), মোকলেস (৫২), আলামিন ওরফে জিকিরি (৪০) ও বাহার মিয়া (২২)। তারা সবাই উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর (বুধবার) রাত আনুমানিক ৯টার ওই তরুণী ওয়াজ শোনার জন্য নিজ বাড়ি বাড়িউড়া উত্তরপাড়া থেকে একই গ্রামের বাড়িউড়া সিরাজুল উলুম মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে বাড়িউড়া লাউয়ের খালের রাস্তার পার্শ্ববর্তী নির্জন স্থানে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরে আসামি জাকির মিয়া, নাঈম ও সোহাগ মিয়া, তরুণীকে পালাক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। অভিযুক্তদের উপর্যুপরি ধর্ষণের ফলে তরুণী একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মামলার ৫ নম্বর আসামি আলামিন ওরফে জিকিরি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তার নিজ বাড়ির পাশে ফেলে রেখে চলে যান। এ সময় তরুণীর কান্না শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে।
ঘটনার পর অসুস্থ কিশোরীকে স্বজন ও এলাকাবাসী উদ্ধার করে প্রথমে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ভুক্তভোগী তরুণী বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক গোপা পাল জানান, ভুক্তভোগীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জনান, মামলার অভিযুক্ত ৬নং আসামি বাহার মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকি আসামিদেরকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।