
যশোরে পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলে নিহত, বাবা হাসপাতালে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৫০

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে দেশটির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার রাতে তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান সফরসঙ্গীদের তালিকায় রয়েছেন।
অতিথি তালিকায় আরও আছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব মো. মেহেদুল ইসলাম, মিয়া মোহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী, সহকারী সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুননুন নাহিদ, প্রটোকল অফিসার কামরুল ইসলাম, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ এন এম মনোয়ারুল কাদির, এডিসি স্কোয়াড্রন লিডার সৈয়দ নাজমুল হোসেন, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. নওয়াব আলী ও ফাতেমা বেগম।
সফরসঙ্গী হিসেবে আরও যাচ্ছেন উপপ্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন, সিনিয়র ফটোগ্রাফার মো. খালেদ ইবনে এম এ রব, এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী, পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম আরিকুল আলম, এসএসএফ উপপরিচালক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোহাম্মদ ফারহান ওয়াসিফ, সহকারী পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. মেহেরাজ ইসলাম, সহকারী পরিচালক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ফওজিয়া আলম, লেফটেন্যান্ট তাসফিয়া আক্তার এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আছেন সচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব এস এম আনিসুল হক, চিফ অব প্রটোকল এ এফ এম জাহিদ উল ইসলাম, উপপ্রধান প্রটোকল মো. বেলাল হোসেন, পরিচালক রুহুল আমিন, পরিচালক মো. ইফতেখার রহমান ও সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাহাব উদ্দিন।
অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী সফরে অংশ নিচ্ছেন। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে মো. আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের বড় কোম্পানি ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। তিনি জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এই সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ভূমিকা রাখবে।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট বা ইপিএ এর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জাপানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির বিষয়টি। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাবে।
সফরসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। পাশাপাশি জাইকা, জেবিআইসি, জেট্রো এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করবেন।
সফরের অংশ হিসেবে চিবা প্রিফেকচারের ফুত্তসু সিটিতে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং নাগোয়াতে ইউনিক্লোর সদর দফতর ও টয়োটা কারখানা পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণসহ বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে উভয় পক্ষের আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি চুক্তি এই সফরকালে স্বাক্ষরিত হতে পারে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হবে। গেল এপ্রিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। ওই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই সফরের আগে ২০২৬ থেকে ২০৩১ সময়কালে ১২টি অগ্রাধিকার খাতের জন্য প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিনিয়োগ প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু উদ্যোগ বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট বা বিআইজি-বি এর সঙ্গে যুক্ত।
প্রস্তাবিত প্যাকেজের আওতায় পরিবহন ও নগর সংযোগের জন্য ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন, মাতারবাড়িসহ সমন্বিত শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের জন্য ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন, উৎপাদন ও অটোমোবাইল খাতের জন্য ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন, জ্বালানি রূপান্তরের জন্য ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামোর জন্য ৯৪০ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। এছাড়া কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটনসহ অন্যান্য খাতের জন্য আরও ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব রয়েছে।
১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে জাপান সফর করেছিলেন।