
জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী
হাসান ওয়ালী
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৮

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সোমবার (২৬ অক্টোবর) চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে কৃষি, মানবসম্পদ, বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান চলাচলসহ অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। পাশাপাশি মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে জাপানি অর্থায়ন এবং নতুন বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, জাপানকে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করাই এ সফরের প্রধান এজেন্ডা।
চীন, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর এবার জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের সফরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দুই দেশের সরকারপ্রধানের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্ব পাবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ ও বেসামরিক বিমান চলাচলসহ আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে অন্তত চারটি স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে জাপানি ঋণের সুদের হার কমানো এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও আলোচনা হবে।
সফরকালে ‘জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরাম’-এ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া নাগোয়ায় টয়োটা কারখানা ও ইউনিক্লোর সদর দফতর পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর মতে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে প্রধান এজেন্ডা হবে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা। তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্যই প্রধানমন্ত্রী ছুটে বেড়াচ্ছেন, যাতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। জাপান একটি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী দেশ। বাংলাদেশের বহু প্রকল্পে তাদের অর্থায়ন রয়েছে। তারা যাতে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারে, সে জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করাই নিশ্চয়ই প্রধান এজেন্ডা হবে।’
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে চুক্তি করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সাবেক কূটনীতিকও। উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি ব্যবসা সম্প্রসারণে আরও বেশি মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ, সম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেব। তবে এমনভাবে এগোনো যাবে না, যাতে আমাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাণিজ্যের ওপর জোর দিতে হবে। আমরা উন্নয়ন সহযোগিতা হিসেবে বৈদেশিক সহায়তা নিলেও শর্তগুলো যেন আমাদের জন্য অনুকূল হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে জাপান যাবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।