
আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ: রিজভী
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২২:২০

আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথের সারথি বিএনপি-জামায়াত। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও ছাত্রসমাজের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে লড়েছেন দল দুটির নেতা-কর্মীরা৷ পরে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণেরা জাতীয় নাগরিক পার্টি নামে নতুন দল গঠন করেন। একটা সময় পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী সব পক্ষের মধ্যে ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। সবশেষ জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকে টানাপোড়েন শুরু হয় আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা মিত্রদের।
ফ্যাসিবাদবিরোধী সেই ঐক্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কোনো ফাটল ধরাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের নেতারা বলছেন, সেই ঐক্য এখনো অটুট আছে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিরোধী দলের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানাই, আপনাদের অন্য যেকোনো কর্মসূচি আছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ব্যাপারে, সেটাকে একপাশে রাখেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশ্বজনিত পরিস্থিতির কারণে যে সমস্যাগুলো আমাদের ওপর চেপেছে, সে ব্যাপারে আসেন আমরা মিলেমিশে সিদ্ধান্ত নিই।
তিনি বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধীরা যদি একত্রে বসি, তাহলেই সাধারণ মানুষের কাছে একটা ভালো সংবাদ যাবে। এর ফলে কুচক্রী মহল, যারা গার্মেন্টসসহ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে নানান ছলছুতায় অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তারা দমে যাবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপিসহ যারা দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছে, তাদের মধ্যে ঐক্য এখনো আছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার আমাদের বিরুদ্ধে বলছে, আমরা সরকারের বিরুদ্ধে বলছি—এটাই তো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে হতে পারে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে প্রত্যেককে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ দেওয়া। ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য অটুট আছে।
শুধু গার্মেন্টসশ্রমিকদের সাম্প্রতিক ইস্যু নয়, জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য আরও জোরালো করা দরকার, এ কথা মানছেন সবাই।