স্বৈরাচার আমলের মতো পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে সরকার: নাহিদ ইসলাম
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৩০

সেন্টমার্টিন যাত্রার জন্য প্রস্তুত জাহাজ। ছবি: সময় সংবাদ
তিনটি জাহাজের অনুমোদন মিলেছে, বিক্রি হয়েছে পাঁচ শতাধিক টিকিট। তবে জেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত সম্মতি না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে না পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল।
বহু প্রতীক্ষার পর পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াতের সুযোগ চালুর খবরে স্বস্তি ফিরেছিল পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে। প্রস্তুত করা হয়েছিল তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ। সম্পন্ন হয়েছিল প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম। এমনকি বিক্রি হয়েছিল পাঁচ শতাধিক টিকিটও। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত সম্মতি না মেলায় ভেস্তে গেছে বৃহস্পতিবার থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর উদ্যোগ। ফলে আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সেন্টমার্টিনগামী পর্যটক ও জাহাজমালিকেরা।
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া ঘাটে নোঙর করে আছে পর্যটকবাহী তিনটি জাহাজ-এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও কেয়ারী সিন্দাবাদ। আর এমভি টেকনাফ রাতের মধ্যে বাঁকখালী নদীতে নোঙর করবে জানিয়েছে জাহাজ কর্তৃপক্ষ। পর্যটকদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জাহাজগুলোতে নতুন রং করা হয়েছে, পরিবর্তন করা হয়েছে বসার চেয়ার। নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন। অপেক্ষা ছিল শুধু সেন্টমার্টিনের পথে যাত্রা শুরুর।
জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলীর ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।
জাহাজগুলোর দায়িত্বে থাকা নুরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের দিক থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে জাহাজের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরকারি অনুমোদন পাওয়া মাত্রই তাঁরা জাহাজ চলাচল শুরু করতে পারবেন।
তবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও জেলা প্রশাসনের সম্মতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রা শুরু করা যাচ্ছে না।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর বুধবার দিনভর জেলা প্রশাসকের সম্মতি পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত সম্মতি পাওয়া যায়নি। এ কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিনটি জাহাজের সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে পাঁচ শতাধিক টিকিট বিক্রি হয়েছে। যাঁরা টিকিট কিনেছেন, জাহাজ চলাচল শুরু হলে তাঁরা ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের সম্মতি পাওয়া গেলে শুক্রবার থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
জাহাজ চলাচল শুরুর প্রস্তুতি সম্পর্কে হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ইতিমধ্যে তিনটি জাহাজ ঘাটে পৌঁছেছে। রাতের মধ্যে আরও একটি জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিআইডব্লিউটিএর প্রয়োজনীয় অনুমোদনসহ সফটওয়্যার ও অন্যান্য প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। এখন স্থানীয় প্রশাসনের সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।
তিনি বলেন, দ্বীপের বাসিন্দারাও পর্যটকদের বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পর্যটকদের ফুলের মালা ও ফুলের স্টিকার দিয়ে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি রয়েছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব জাহাজ চলাচল শুরু করতে চান তাঁরা।
এদিকে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম কাজল জানান, সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের জন্য একমুখী ভাড়া সর্বনিম্ন ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ভাড়ার ক্ষেত্রে কেবিনের সুবিধা রয়েছে। ট্যুরিজম বোর্ডের সার্ভারের মাধ্যমে রাত আটটার পর থেকে টিকিট ইস্যু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সারা দেশে তাঁদের শতাধিক এজেন্টও বুকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সভাটি কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সরকারের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াতের পাশাপাশি রাত্রিযাপন করতে পারবেন। তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
দ্বীপে যেতে প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ ছাড়া ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্বীপে বেশ কিছু বিধিনিষেধও রয়েছে। রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যাবে না। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ, ক্রয়-বিক্রয়ও নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ।
সব মিলিয়ে জাহাজ প্রস্তুত, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও টিকিট বিক্রির কার্যক্রমও সম্পন্ন। এরপরও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আটকে আছে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের যাত্রা। এখন পর্যটক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপেক্ষা, কবে মিলবে জেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত সম্মতি।