
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১২

মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুই বাংলাদেশি তরুণকে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করেছিলেন মানবপাচারকারীরা। পরিবার থেকে একই পরিমাণ টাকা মুক্তিপণ দিলেও বিড়ম্বনায় তারা। এ ঘটনায় করা মামলায় মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর পল্টন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার দুজন হলেন- গাজীপুরের পূবাইল থানাধীন বড়দল গ্রামের বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন শেখ ওরফে পনিরের ছেলে মো. শাওন মোল্লা (২৩) ও একই থানার নয়ানিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শরীফুল ইসলামের ছেলে মো. সাকিব সরকার (২৬)।
সিআইডির মিডিয়া কর্মকর্তা বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়- বিদেশে ভালো চাকরি ও আর্থিকভাবে সচ্ছল জীবনের আশায় ভুক্তভোগী দুই বাংলাদেশি তরুণ মানবপাচার চক্রের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়ায় যান। তাদের প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রায় ছয় লাখ টাকা করে নেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা আশা করেছিলেন, বিদেশে কাজ করে দুই তরুণ পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেয়া হয়। এরপর মানবপাচারকারীরা তাদের পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে একটি স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেন। সেখানে তাদের জোরপূর্বক অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করা হয়। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা সামান্য ভুল হলে তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। নিজেদের ইচ্ছায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কিংবা নিরাপদে দেশে ফেরার কোনো সুযোগ তাদের ছিল না।
পরবর্তীতে কোনোভাবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হলে ভুক্তভোগী দুই তরুণের মুক্তির জন্য স্ক্যাম সেন্টার থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্তানদের মুক্তির আশায় তাদের পরিবারের সদস্যরা ওই অর্থের ব্যবস্থা করেন। তবে মুক্তি পাওয়ার পরও তাদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, মুক্তির পর মানবপাচারকারীরা পুনরায় দুজনকে তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায় এবং দেশে ফেরার টিকিটের অর্থও পরিবারের কাছ থেকে আদায় করে। এভাবে বিদেশে পাঠানোর খরচ, মুক্তিপণ এবং দেশে ফেরার টিকিটের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারগুলোকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়।
পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী দুই তরুণ প্রায় দুই মাস কম্বোডিয়ার একটি স্থানীয় হোটেলে অবস্থান করতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে তারা অনলাইনের মাধ্যমে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। প্রয়োজনীয় সহায়তায় অবশেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘদিনের বন্দিদশা, নির্যাতন ও অনিশ্চয়তার পর তারা গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন।
এ ঘটনায় গত ২৬ অক্টোবর পল্টন থানায় মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলাকরা হয়। মামলাটির অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির একটি টিম ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি শাওন মোল্লা ও সাকিব সরকারকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান।