
পিরোজপুরে ট্রলারডুবি: ৩ দিন পর নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার
প্রতিবেদক, জয়পুরহাট
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৩৫

জয়পুরহাটে হিমাগারে মজুত আলু এখন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছবি: সময় সংবাদ
জয়পুরহাটে হিমাগারে মজুত আলু এখন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিমাগারে প্রতিকেজি আলু সংরক্ষণে ২০ টাকা ব্যয় হলেও বর্তমানে তা হিমাগার গেটেই বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১১ টাকায়। এতে লোকসানে সংশ্লিষ্টরা। তবে, কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থার কথা জানায় কৃষি বিপণন বিভাগ।
চলতি বছরের মার্চে জয়পুরহাটের হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণ করে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের লক্ষ্য ছিল ২০২৫ সালের লোকসান ২০২৬ সালে পুষিয়ে নেবেন। ওই সময় ৬৫ কেজির এক বস্তা আলু রাখতে তাদের খরচ পড়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা।
বর্তমানে ৬০ কেজির প্রতি বস্তা আলু হিমাগার গেটে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৮০ টাকায়। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা দু'বছর আলুর মূল্য না পাওয়ার পর চলতি বছরের দামে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
জেলার ২২টি হিমাগারে মৌসুমের শুরুতেই ২ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়। অথচ মৌসুম শেষ হওয়ার কিছুদিন বাকি থাকলেও মাত্র ৫৫ ভাগ আলু খালাস হয়েছে।
হিমাগার কর্তৃপক্ষ বলছে, রফতানিসহ আলুর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য কারখানা তৈরি জরুরি।
কৃষি বিপণন বিভাগ বলছে, সম্প্রতি কালাই উপজেলায় একটি কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য জায়গা নির্ধারণ প্রস্তুতি চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে আলুর বিভিন্ন পণ্যের সঠিক বাজার পাবেন কৃষক।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর জয়পুরহাটে প্রায় ৪৩ হাজার হেক্টর জমিতে ১০ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়।
জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী জেলা জয়পুরহাট। এ বছর সেই আলুতেই কপাল পুড়ছে এ জেলার প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। আলুর বাজারে দরপতনের কারণে অনেক কৃষকেরই এখন পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম। বিশেষ করে যারা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আলু চাষ করেছেন। ব্যবসায়ী ও মৌসুমি আলুর পাইকারি বিক্রেতারাও পড়েছেন বিপাকে। বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে ও ধারদেনা করে হিমাগারে আলু মজুত করেছিলেন বেশি দামে বিক্রির আশায়। আলুর দাম কমে যাওয়ায় পুঁজি হারানোর শঙ্কায় আছেন তারা। শুধু কৃষক, কিংবা ব্যবসায়ী নয়, শঙ্কায় আছেন হিমাগারের মালিক কর্তৃপক্ষরাও। সময়মতো হিমাগার থেকে আলু খালাস না হলে লোকসানে পড়বেন তারা।
কৃষক ও হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে সংরক্ষণ, সব মিলে প্রতি বস্তা আলুতে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে হিমাগারের আলু বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ টাকা পর্যন্ত। এতে করে প্রতি বস্তা আলুতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
প্রান্তিক কৃষক শহিদুল ইসলামের ভাষ্য, এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে আলুর বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও সেচ দেয়াসহ সব মিলিয়ে কৃষকের খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘা জমিতে আলু উত্তোলনের সময় বিক্রি করেছিলেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এতে করে ভরা মৌসুমেই আলুতে লোকসান হয়েছে কৃষকের ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
কৃষক বকুল হোসেন বলেন, গত বছরের লোকসান কাটিয়ে এ বছর লাভের মুখ দেখবো বলে আশা করেছিলাম। মৌসুমের শুরুতে লোকসান হয়েছে, তাই ভেবেছিলাম হিমাগারে রাখলে হয়ত দাম বাড়বে, তখন বিক্রি করবো। কিন্তু এখন পর্যন্ত আলুতে সবাই লোকসানে আছি আমরা। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু নজর দিত তাহলে কৃষকদের উপকার হতো।
আলু ব্যবসায়ী জাকারিয়া হোসেন বলেন, এ বছর আলুর দরপতনের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু ব্যবসায়ীরাও। বাজারদর কমে যাওয়ায় মজুত করা আলু প্রত্যাশিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। ফলে হিমাগারে রাখা আলুর পেছনে বিনিয়োগ করা অর্থ আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। হিমাগার থেকে আলু বের করছেন না কৃষকরা।
কালাইয়ের এম ইসরাত হিমাগারের ব্যবস্থাপক আবু রায়হান ও পুনট কোল্ড স্টোরেজের হিসাব রক্ষক এনামুল হক বলেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং শ্রমিকের মজুরি কয়েক গুণ বাড়লেও তারা ভাড়া বাড়াননি। আগের ভাড়াই নিচ্ছেন। এ বছর আলুর দরপতনের কারণে হিমাগার থেকে আলু বিক্রি করছেন না কৃষকরা। এতে করে একদিকে যেমন পাইকাররা অলস সময় পার করছেন, অন্যদিকে হিমাগার থেকে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ আলু খালাস হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। এতে করে সময়মতো হিমাগার থেকে আলু খালাস নিয়েও শঙ্কায় আছে হিমাগার কর্তৃপক্ষ।
জয়পুরহাট কৃষি বিপণন অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, জেলার ২২টি হিমাগারে এ বছর প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুত রাখা হয়েছিল। অথচ চলতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত আলু খালাস হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। যা মূল সংরক্ষণ করা আলুর ৫৫ ভাগ দাঁড়ায়। তবে তিনি আলু চাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর দিয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই আমরা কালাই উপজেলায় একটি কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করার চেষ্টা চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে আলুর বিভিন্ন পণ্যের সঠিক বাজার পাবেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।