
কুমিল্লায় ইজিবাইকের ধাক্কায় সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু
সাকির হোসেন বাদল, নীলফামারী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪০

নীলফামারীতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা। ছবি: সময় সংবাদ
টানা দুই মৌসুম আলুর কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলেও আগাম আলু চাষে আশার আলো দেখছেন নীলফামারীর কৃষকেরা। মাঠজুড়ে এখন চলছে জমি প্রস্তুত, সুষম সার ছিটানো ও বীজ রোপণের ধুম। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় চাষি ও কৃষি শ্রমিকেরা।
জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা আগাম আলু উৎপাদনের জন্য অন্যতম পরিচিত এলাকা। এখানকার আগাম আলুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। কৃষকেরা জানান, সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এই আলু রোপণ চলবে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। রোপণের মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই খেত থেকে নতুন আলু ঘরে তুলতে পারবেন তারা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জে আগাম আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমি। যেখানে হেক্টরপ্রতি সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ মেট্রিক টন। এছাড়া আগাম আলু চাষের কারণে এ সময়ে বেকার বসে থাকা অন্তত পাঁচ হাজার কৃষি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষক আবু তাহের, লোকমান, হাবিব ও মো. সেলিম জানান, উৎপাদন খরচ কমাতে এবং মাটির উর্বরতা বাড়াতে তারা কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী গোবর ও কেঁচো সারের (ভার্মি কম্পোস্ট) ব্যবহার বাড়িয়েছেন। তবে সময়মতো ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। কৃষকদের দাবি, সময়মতো সুলভে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমে আসবে।
মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আগাম আলু আবাদে চাষিদের মাঝে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের কিছুটা প্রবণতা থাকে, যার ফলে সাময়িক সংকট দেখা দিতে পারে। তবে কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় সার নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লোকমান আলম বলেন, ‘আগাম আলু চাষ এই অঞ্চলের কৃষকদের একটি লাভজনক ও নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এতে লোকসানের ঝুঁকি কম। সুষম সার ব্যবস্থাপনা ও কৃষি বিভাগের প্রযুক্তিগত সহায়তার কারণে এবারও ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।’