
শান্তির বার্তা ছড়িয়ে কক্সবাজারে হয়ে গেল ‘রান ফর পিস’ সংহতি দৌড়

মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। ছবি: সময় সংবাদ
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো বাকি সাত বাংলাদেশির কফিনবন্দি মরদেহ আড়াই মাস পর দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিকেলে নিজ নিজ গ্রামে নেয়া হলে কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন। পরে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের নিজ গ্রামে পাঠানো হলে কফিনবন্দি প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় জমান স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী।
নিহতদের একজন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাসিবুল হাসান শুভ। পরিবারের ভাগ্য ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সেখানে কাজ না পেয়ে ছেলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে আরও পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে তার পরিবার। কিন্তু জীবনের সেই সব স্বপ্ন ও হিসাব-নিকাশ শেষ হয়ে গেল কফিনবন্দি শুভর শেষ যাত্রায়।
শুধু শুভ নন, একই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো আত্রাইয়ের মিনহাজ, সাগর ও সজিব এবং সদর উপজেলার শাহিনের মরদেহ শনিবার বিকেলে নওগাঁর নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছায়। বাদ আসর জানাজা শেষে শাহিন, সাগর ও সজিবের দাফন সম্পন্ন হয়। তবে আত্রাইয়ের বোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজের মরদেহ রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জানাজা শেষে দাফন করা হবে।
অন্যদিকে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দুই বাসিন্দা শামীম হোসেন ও সাব্বিরের মরদেহ বিকেলে গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরে বিকেল ৪টায় স্থানীয় মাঠে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশাহারা পরিবারগুলো এখন সরকারি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের আকুতি জানাচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা শোকাহত এসব পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে গত ২৭ আগস্ট নয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বাকি সাতজনের মরদেহ শনিবার দেশে ফেরানো হলো। এই সাতজনের মধ্যে পাঁচজন নওগাঁর এবং দুজন নাটোরের বাসিন্দা।