
শেরপুরে বাস চাপায় সিএনজি অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত, আহত চার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৪৭

ছুরিকাঘাতে হত্যা। ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ভালুকায় পূর্ববিরোধের জেরে এক সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া মোড় এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রবীন্দ্র ঋষি (৪৩) ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া তরিফ মুন্সী মোড় এলাকায় কাশেম মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং সেখানে সেলুনের ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেন (২৬) একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রবীন্দ্রের সেলুনে ঢুকে তাকে ছুরিকাঘাত করেন সাজ্জাদ। প্রাণ বাঁচাতে রবীন্দ্র সেখান থেকে দৌড়ে সাজ্জাদের বাবার দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানেও তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে গেলে বাড়ির উঠানে তাকে ফেলে আবারও ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে রবীন্দ্রের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে সাজ্জাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছিল। ওই ঘটনার জের ধরে সাজ্জাদ রবীন্দ্রের ওপর হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের স্ত্রী সূচিত্রা জানান, নেশার জন্য সাজ্জাদ প্রায়ই তার স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিতেন। এ ছাড়া সেলুনে চুল কাটিয়ে টাকা পরিশোধ করতেন না। সম্প্রতি টাকা না দেয়া এবং চুল কাটতে না দেয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
এর আগেও সাজ্জাদ তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন সূচিত্রা। তার দাবি, পূর্ববিরোধের জেরেই তার স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্র ও সাজ্জাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। ঘটনার সময় রবীন্দ্র নিজের সেলুনে ছিলেন। এ সময় সাজ্জাদ অতর্কিতভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে তার বুক, পিঠ, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে পালিয়ে যান। গুরুতর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই রবীন্দ্রের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে ভালুকা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্ত সাজ্জাদকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।