
নলছিটিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলো স্বজনরা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৫৩

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং সাবেক শিবিরকর্মী সাব্বির প্রামাণিক। ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক সহিংসতায় গুরুতর আহত হয়ে ১৩ বছর ধরে জীবনসংগ্রাম চালানো ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা সাব্বির প্রামাণিককে চাকরি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কাছে চিঠি দিয়েও সাড়া না পাওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
বগুড়ার সাব্বিরকে একটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকট কাটিয়ে তার পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা গেছে, সাব্বিরের জীবনসংগ্রাম নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নজরে আসে। প্রতিবেদনটি পড়েই তিনি সাব্বিরের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেন। বর্তমানে সাব্বির পুষ্টি চালের মিল, সিমেন্টের ইট তৈরির কারখানা ও মাছের খামার দেখাশোনা এবং হিসাবনিকাশের দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে সম্মানজনক পদে নিয়োগের পাশাপাশি ভালো বেতনও দেয়া হচ্ছে।
চাকরি পেয়ে সাব্বির বলেন, ‘আমি চাকরির জন্য বহুবার জামায়াত নেতাদের কাছে গিয়েছি। কিন্তু তারা আমাকে চাকরি দেয়নি; বরং মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করেছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আমাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং ভালো বেতন দিচ্ছেন। এখন আল্লাহ আমাদের পরিবারকে ভালো রেখেছেন, আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি।’
সাব্বিরের জীবনসংগ্রামের শুরু ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি। ওই দিন রাজনৈতিক সহিংসতায় বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি। হামলায় তার সহকর্মী শিবিরনেতা আবু রুহানী নিহত হন। এ সময় সাব্বিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। তার দাবি, হার্ট, ফুসফুস ও কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল এবং শরীরে দিতে হয়েছিল ৬৪টি সেলাই। একপর্যায়ে সংবাদপত্রে তাকে মৃত বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বেঁচে আছেন তিনি।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরতে পারেননি। একপর্যায়ে জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করলেও অসুস্থতার কারণে তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে চিকিৎসার ব্যয় ও পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে তার পরিবার।
এ অবস্থায় নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন শিবিরের সাবেক এ নেতা। চিঠিতে সংগঠনের জন্য ত্যাগ স্বীকারের পরও দুঃসময়ে চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। চাকরির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো ফল মেলেনি বলে জানান।
সাব্বিরের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়ায় তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও আনন্দ ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাদের প্রত্যাশা, নতুন কর্মজীবনের মাধ্যমে সাব্বির স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।