
শিশুকে মাটিতে আছাড় মেরে হত্যার দায়ে ইতালি প্রবাসীর যাবজ্জীবন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৯

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ফাইল ছবি
এবার সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় জাবেদসহ ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদক চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই মামলাটি করা হয়।
দুদক জানায়, চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংক জুবলী রোড শাখা থেকে আরামিটের এজিএম জাহাঙ্গীর আলমকে সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ী দেখিয়ে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে দুদক টিমের পক্ষে উপসহকারি পরিচালক (ডিএডি) রুবেল হোসেন বাদী হয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও অন্যান্যরাদের আসামি করে মামলাটি করেন।
জাবেদ ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, আরামিট সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ও ইউসিবির সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম এবং আরামিট সিমেন্টের এজিএম একেএম মারুফ, ক্লাসিক ট্রেডিং এর মালিক ও আরামিট পিএলসির এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ইসলামী ব্যাংক জুবিলী রোড শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মহিউদ্দিন, প্রিন্সিপাল অফিসার (বিনিয়োগ) মোহাম্মদ আখতার হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার ও জেনারেল ব্যাংকিং ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল হক, ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ মো. আবদুল কাদের, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জুবিলী রোড শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আবদুল করিম, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শহিদুল্লাহ, এফএভিপি মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, এসভিপি আবুল কালাম আজাদ, এসভিপি মোহাম্মদ মহসীন আলী এবং এসপিও রিদওয়ানুল হক।
২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের বহদ্দারহাট শাখায় আরামিট সিমেন্টের নামে একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১৫ মে হিসাবটি জুবিলি রোড শাখায় স্থানান্তর করা হয়। একই বছরের ১৫ অক্টোবর আরামিট সিমেন্টের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান ওই শাখায় ৫০০ কোটি টাকা কার্যকরী মূলধন ঋণের আবেদন করেন। একই বছরের ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির ৫১তম সভায় ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটি তা অনুমোদন করে।
দুদকের অভিযোগ, ঋণের অর্থ বিতরণের জন্য ভুয়া বাই-মুরাবাহা ডিল তৈরি করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আরামিট সিমেন্টের হিসাব বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়। তার নামে ক্লাসিক ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে- ক্লিংকার, জিপসাম, লাইমস্টোন ও স্ল্যাগসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহের কথা উল্লেখ করে ভুয়া ইনভয়েস ও অন্যান্য কাগজপত্র ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। বাস্তবে মালামাল সরবরাহ না করেই এসব নথির ভিত্তিতে ২৭টি বাই-মুরাবাহা ডিলের বিপরীতে পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের অভিযোগ ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের নামে ইস্যু করা পে-অর্ডারের অর্থ প্রথমে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির স্টেশন রোড শাখায় প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে জমা হয়। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ঘুরে অর্থের একটি অংশ আরামিট সিমেন্টের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে ২৭টি ডিলের বিপরীতে মোট ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২৭টি ভুয়া বাই-মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এতে প্রতারণা, জালিয়াতি, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।