
লংমার্চ প্রত্যাহার করে সংসদে ফিরুন, বিরোধী দলকে মীর শাহে আলম
তাসলিম তৌহিদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২০

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফাইল ছবি
গত মে মাসে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রূপপুরের বালিশকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বালিশ যখন কেনা হয়েছে, সেই বালিশের দাম ধরা হয়েছিল ৮০ হাজার টাকা। একজন স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে চিন্তা করতে পারেন, পৃথিবীতে কখনো কোনো বালিশের দাম ৮০ হাজার টাকা হতে পারে?’
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) অডিট রিপোর্টে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। সেই চিত্র দেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বালিশ জাদুঘরে রাখা উচিত।
তবে সাত বছর আগের আলোচিত সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এখনও বিচারের মুখোমুখি করতে পারেনি দুদক। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতারা একে সংস্থাটির ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।
দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা জজ ড. শাহজাহান সাজু বলেন, ‘এখানে প্রামাণ্য নথি রয়েছে। তারপরও দুদকের অন্য কোনো অজুহাত থাকতে পারে না। এত দিনেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি, অভিযোগপত্র দিতে পারেনি-এটা তাদের ব্যর্থতা।’
২০১৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই অনিয়মের ঘটনা সামনে এলে মামলা করে দুদক। ওই ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। দেশের ইতিহাসে দুর্নীতি কতটা অস্বাভাবিক পর্যায়ে যেতে পারে, তার প্রকট উদাহরণ হয়ে ওঠে রূপপুরের এই বালিশকাণ্ড।
অভিযোগ ছিল, একটি বালিশ কেনা হয়েছিল ৫ হাজার ৯৫৭ টাকায়, সেটি খাটে তোলার মজুরি ধরা হয়েছিল ৭৬০ টাকা। এ ছাড়া একটি কমফোর্টারের দাম দেখানো হয় ১৬ হাজার ৮০০ টাকা এবং বিদেশি চাদর কেনা হয় প্রায় ৬ হাজার টাকায়। বাজারমূল্যের তুলনায় এসব পণ্যের অস্বাভাবিক দাম সামনে আসার পর প্রায় সাড়ে ৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চারটি মামলা করে দুদক।
মামলায় দুই ঠিকাদার ও গণপূর্ত অধিদফতরের ১১ প্রকৌশলীসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়। তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদও তখন দ্রুত অভিযোগপত্র দেয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে ইকবাল মাহমুদের পর মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং এরপর আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন; এভাবে তিনটি কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে।
এখন চতুর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান। ২০২৬ সালের অক্টোবরেও এই মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তবে দুদকের মহাপরিচালকের দাবি, নতুন কমিশনের অধীনে সব মামলার তদন্তেই গতি আসবে।
দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, ‘অনেক তথ্য নিতে হয়, অনেক বিষয়ে অনুসন্ধান করতে হয়, অনেক সাক্ষীর বক্তব্য নিতে হয়। এর সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকে। এ ধরনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এলে তা জানানোর মতো অবস্থায় আমরা অবশ্যই জানাব, ইনশাআল্লাহ। তবে কার্যক্রম চলমান রয়েছে-এটি নিশ্চিত।’
অন্যদিকে দুদকের সাবেক এক মহাপরিচালকের মতে, সদিচ্ছার অভাবেই বছরের পর বছর ঝুলে আছে এই মামলার তদন্ত। দায়ীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত করছি-এ কথা বলতে বলতে বছরের পর বছর চলে গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, যুগের পর যুগ পার হচ্ছে। ঘটনাটি এক যুগ আগের। এর মধ্যে সরকার কতবার পরিবর্তন হয়েছে, কমিশন কতবার পরিবর্তন হয়েছে। তারপরও তদন্ত শেষ হয়নি। দুদকের এমন আরও দু-একটি ঘটনা খুঁজলে পাওয়া যাবে। এটাকে সদিচ্ছার অভাব বলব না, একেবারেই অনিচ্ছা। তারা চায় না।’
তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত গণপূর্ত অধিদফতরের বেশিরভাগ কর্মকর্তাই এরই মধ্যে অবসরে চলে গেছেন।