
আওয়ামী লীগ বিষধর সাপ, গর্ত থেকে মাথা তুলতে দেয়া যাবে না: নার্গিস বেগম
প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক রাতে পাশাপাশি পাঁচটি বাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ছবি: সময় সংবাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক রাতেই পাশাপাশি পাঁচটি বাড়ির তালা ভেঙে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, ফসল ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, একটি হত্যা মামলায় পুরুষ সদস্যরা আসামি হয়ে পলাতক থাকার সুযোগে রাতের আঁধারে এ লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের বাটারমোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এক রাতে পাশাপাশি পাঁচটি বাড়িতে এমন লুটের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের অন্ধকারে বাটারমোড় গ্রামের মনিরুল ইসলাম, বানারুল ইসলাম, দবির আলী, মুখলেস আলী ও এনামুল হকের পাঁচটি বাড়ির অন্তত ১৫টি ঘরে লুটপাট চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা প্রত্যেকটি ঘরের দরজার তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ঘরের আলমারি ও আসবাবপত্রের তালা ভেঙে মূল্যবান জিনিসপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এমনকি একটি বাড়ি থেকে জমির দলিল ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রও গায়েব করা হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নারী সদস্যরা জানান, একটি হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার পর থেকেই গত দুই সপ্তাহ ধরে বাড়িগুলো পুরুষশূন্য অবস্থায় রয়েছে। পুলিশের গ্রেফতার অভিযান ও নানা হয়রানির ভয়ে রাতের বেলা নারীরাও এসব বাড়িতে থাকতে সাহস পাচ্ছিলেন না। প্রতিদিনের মতো রোববার সন্ধ্যার আগেই নারী সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি ও আত্মীয়দের আশ্রয়ে চলে যান। পরদিন সকালে এসে দেখেন সব ঘরের তালা কাটা এবং মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখে সবকিছু লুট করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মায়েদা খাতুন সময় সংবাদকে বলেন, ‘আমার শ্বশুর একটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে পলাতক রয়েছেন। আমার স্বামী বা দেবর এ মামলার আসামি নন। এরপরও আমরা নারীরা বাড়িতে নিরাপদ বোধ করছিলাম না, তাই বাবার বাড়িতে ছিলাম। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা তালা ভেঙে বাড়ির সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমাদের জানা নেই। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত মুখলেস আলীর স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমাদের দুটি ঘরে থাকা ফ্রিজ, জমির দলিলপত্র, নগদ প্রায় দুই লাখ টাকাসহ মূল্যবান সব জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে কখন এসব লুট করা হয়েছে তা জানি না। যে মামলা হয়েছে, আমরাও চাই তার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হোক। কিন্তু আমাদের ওপর এমন বর্বরতা কেন চালানো হলো?’
জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের কলমোগাড়া এলাকায় বাবুল আক্তার (৩৫) নামের এক মানবপাচারকারীকে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। বিদেশে লোক পাঠানো এবং রাশিয়ায় যুদ্ধে এক যুবকের মৃত্যুর জের ধরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল বলে ধারণা পুলিশের। লুট হওয়া বাড়ির পুরুষরা ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হলেও ঘটনার সাথে জড়িত নন বলে পরিবারের দাবি।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে একসঙ্গে পাঁচটি বাড়িতে লুটের বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।