
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আলাদা ‘প্রবীণ সেল’ গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
প্রতিবেদক, ফরিদপুর
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:১

দেলোয়ার হোসেন নামে এক যুবককে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: সময় সংবাদ
ফরিদপুরে বিলের পাশ থেকে দুই চোখ উপড়ানো ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়রা মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে জেলা সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বাইটকুমারী বিলের পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
আহত দেলোয়ার হোসেন ওই ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
তার অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে তুলে নিয়ে দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়। এমনকি নির্যাতন চালিয়ে হাত-পা বেঁধে রাতের আঁধারে একটি বিলের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। এতে তার বাম চোখ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ডান চোখও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ডান পা ও বাম হাত ভেঙে ফেলা হয়েছে।
হাসপাতালে আহত অবস্থায় ঘটনার বর্ণনা দেন দেলোয়ার। তিনি জানান, সম্প্রতি তার বসতঘরের ওপর দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া নিয়ে স্থানীয় আলমগীর নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। এর জেরে তার ওপর হামলা চালিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয় এবং একটি হাত ভেঙে দেয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। এরপর থেকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য তাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল প্রতিপক্ষের লোকজন।
তার ভাষ্যমতে, রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রস্রাব করার জন্য বাইরে বের হলে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি অতর্কিতভাবে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর উঁচু করে বাটিকামারী বিলের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ও মাজেদ ফকির নামে দুজন তাকে নির্যাতন করেন। এরপর মাজেদ ফকির, আলমগীর, জাহাঙ্গীর ও শাহিন নামে চারজন তার দুই চোখ উপড়ে ফেলে। একপর্যায়ে মৃত ভেবে বিলের পাড়ে ফেলে রেখে যান তারা।
আজ সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন বিলের পাশের একটি ধানক্ষেতে তাকে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে তার এমন অভিযোগ প্রতিপক্ষের শিখিয়ে দেয়া বলে জানান সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, দেলোয়ার একজন পেশাদার চোর। ওর কারণে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। এমনকি বিভিন্ন থানায় চুরি-ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে আমার জানা নেই।
তিনি বলেন, সামনে আমি নির্বাচন করব। আমার জনপ্রিয়তা দেখে প্রতিপক্ষ আমাকে হেয় করার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছে। আজ এ ঘটনার পর তারাই কথাগুলো শিখিয়ে দিয়ে আমার নাম বলানো হয়েছে। তবে, আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম বাদশা মিয়া জানান, দেলোয়ার এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সেই বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, কি কারণে কারা ঘটনা ঘটিয়েছে এখনও জানা যায়নি। আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। এ ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।