
আওয়ামী লীগ বিষধর সাপ, গর্ত থেকে মাথা তুলতে দেয়া যাবে না: নার্গিস বেগম
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে দীর্ঘদিন ধরে চলা সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজে পথচারীদের চরম ভোগান্তি। ছবি: সময় সংবাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে আট বছর ধরে। তিন বছরের একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী।
গেল প্রায় এক মাস ধরে বৃষ্টিপাত না থাকলেও ড্রেন নির্মাণাধীন সড়কের ওপর পানি জমে থাকে। দুর্গন্ধযুক্ত এই পচা পানি পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও পথচারীদের। প্রতিদিনের এই চিত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের শংকরবাটি এলাকার শান্তিমোড়-বটতলা হাটের সড়কের। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় ড্রেন ও সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে এমন ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী।
শুধু শংকরবাটি সড়ক নয়, জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ বেশিরভাগ সড়কই এখন খানাখন্দ ও নির্মাণসামগ্রীতে আটকে আছে। খুঁড়ে রাখা সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। দুটো সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং ঝিলিম রোড ও করনেশন রোড প্রশস্তকরণসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজে প্রধান সড়কগুলোর পথ কোথাও কোথাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। যানজট আর বিকল্প পথে চলাচলে নষ্ট হচ্ছে সময়, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের সড়ক সম্প্রসারণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে চলমান প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফায় বাড়ানোর পর তৃতীয় দফায় বাড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। আট বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফলের বদলে শহরজুড়ে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধকল অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তদারকির অভাব ও ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণেই দুর্ভোগ দীর্ঘ হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
শংকরবাটি এলাকার বাসিন্দা শামীম আহমেদ বলেন, ‘কয়েক বছর ধরেই কাজ শুরু হবে হবে শুনেই যাচ্ছি। অবশেষে কাজ শুরু হলেও অনেক ধীরে চলছে। এমনকি নানারকম অব্যবস্থাপনায় চলছে ড্রেন নির্মাণের কাজ। পথচারীদের পচা পানি পেরিয়ে যেতে হচ্ছে।’
শাহিবাগ এলাকার বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম জানান, সার্কিট হাউজ মোড় থেকে সিসিডিবি মোড় পর্যন্ত সড়কটি চলাচলের উপযোগী ছিল। কিন্তু গেল ৬ মাস ধরে ভালো রাস্তা খুঁড়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এমনকি মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে সড়কের নিচের অংশ।
কলেজ শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, ‘এই মুহূর্তে জেলা শহরে যাতায়াত করাই দায় হয়ে গেছে। কোনো সড়কের অবস্থা ভালো নয়। কোথাও কাদা, কোথাও ধুলোবালি, আবার কোথাও গর্ত। আমরা উন্নয়ন চাই, তবে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হতে হবে।’
জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মনির জানান, দ্রুত এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের আরও গুরুত্ব দেয়া উচিত।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, মহানন্দা নদীর সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ১৯টি প্যাকেজে মোট প্রায় ৩৮ কিলোমিটার সড়ক ও প্রায় ১৮ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ২৫৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ধরা হলেও, দুই দফায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৩ কোটি ২০ লাখ টাকায়। আট বছরে বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৭০ শতাংশ। এ অবস্থায় তৃতীয় সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।
পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ বলছে, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর সেতু থেকে শেখ হাসিনা সেতু পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীন শহরের বাতেন খাঁর মোড় থেকে ফুড অফিস মোড় হয়ে উদয়ন মোড় ঘুরে বড় ইন্দারা মোড় পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ ও ড্রেন নির্মাণকাজ চলছে। সড়কটি সম্প্রসারণ করে ৩০ ফুট প্রশস্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কামাল উদ্দীন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বেসিক ব্যাংক পর্যন্ত লিংক রোড নির্মাণ করা হচ্ছে। ১৯টি প্যাকেজে এসব কাজ বাস্তবায়ন করছে প্রায় ১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মোহা. ইমরান হোসাইন বলেন, ‘চলমান এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের কাজ শুরু হতে দেরি হয়েছে। ড্রেন ও পানির লাইনের কাজ ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, আগের চেয়ে কাজে গতি এসেছে এবং তৃতীয় দফায় আগামী ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। এবার মেয়াদ বাড়লেও নির্মাণ ব্যয় বাড়বে না।