
বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
মঈন উদ্দিন সরকার সুমন
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২০:২১

কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়।
পরবর্তীকালে দূতাবাসের মাল্টিপারপাস হলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বাণী পাঠ, উন্মুক্ত আলোচনা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
কাউন্সেলর মোহাম্মদ শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও কাউন্সেলর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিবুল করিম চৌধুরী এবং প্রথম সচিব মোহাম্মদ আতিকুল মামুনসহ দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, এই দুই শীর্ষ নেতার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সেদিনের সিপাহী-জনতার বিপ্লব জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল। জাতীয় সংকটে ঐক্যবদ্ধ জনগণ ও দেশপ্রেমিক শক্তি যে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে, ৭ নভেম্বর আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের মূল্যবোধ ধারণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে কুয়েতে অবস্থানরত প্রায় তিন লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ পথে পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখছেন। শ্রমিক, চিকিৎসক, নার্স ও প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত বাংলাদেশিদের নিষ্ঠা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করছে।
গত অর্থবছরে কুয়েত থেকে বাংলাদেশে পাঠানো ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্সের কথা উল্লেখ করে বক্তারা প্রবাসীদের কুয়েতের আইনকানুন মেনে চলা, ভিসা ও আকামা বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং কর্মক্ষেত্রে নিয়ম বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং দেশ, জাতি ও প্রবাসীদের সুখ-সমৃদ্ধি চেয়ে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।