
ফিনল্যান্ডে নিখোঁজ বাংলাদেশি নাফিস ইস্কান্দার, সন্ধান চায় পুলিশ
সুব্রত আচার্য
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৯

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। ছবি: সময় সংবাদ
প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় খুলতে শুরু করেছে বাংলাদেশি পর্যটকদের পরিচিত আবাসিক হোটেলগুলো। হোটেলমালিকদের করা মামলায় ১৩টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ খারিজ করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। এরপরই একে একে চালু হচ্ছে হোটেলগুলো। দুর্গাপূজার আগে হোটেল খুলতে শুরু করায় স্বস্তি ফিরেছে মালিক, কর্মী ও বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে।
গত আগস্টে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান নয়জন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও ছিলেন। ওই ঘটনার পর নিউমার্কেট এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তৎপর হয় পৌরসভা ও দমকল বিভাগ। নিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় বেশ কয়েকটি হোটেল।
তবে হোটেলমালিকদের একাংশের দাবি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি হোটেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এ নির্দেশনার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ব্যবসায়ীরা। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১৩টি হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত খারিজ করেন আদালত। এরপরই বন্ধ থাকা হোটেলগুলো আবার চালুর পথ খুলে যায়।
হোটেল ম্যানেজাররা জানান, দুর্গাপূজার কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে বাজারে ক্রেতাদের সাড়া ভালো রয়েছে। কয়েক দিন ব্যবসা কিছুটা খারাপ গেলেও এখন আবার গ্রাহক আসছেন। পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
প্রায় দুই মাস হোটেল বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন মালিকরা। তবে মধ্য কলকাতার মার্ক স্ট্রিট, রফি আহমেদ, কিদে স্ট্রিট ও সাদার স্ট্রিটসহ বিস্তীর্ণ এলাকার বন্ধ হয়ে যাওয়া আবাসিক হোটেলগুলো আবার চালু হয়েছে। এতে আশার আলো দেখছেন বাংলাদেশি পর্যটক ও হোটেল ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশি পর্যটকরা বলেন, আগের মতো সেবা পাওয়া গেলে তাদের জন্য ভালো হবে।
অন্যদিকে, কাজ হারানোর শঙ্কায় ছিলেন হোটেল কর্মীরাও। আদালতের নির্দেশে হোটেলগুলো খুলতে শুরু করায় আবারও ভালো ব্যবসার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি পরিবহন খাতেও ফিরেছে ব্যস্ততা।
হোটেলকর্মী ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানান, হোটেলগুলো খুলে যাওয়ায় পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। কেউ আসেন পূজা দেখতে, আবার কেউ আসেন চিকিৎসার প্রয়োজনে। ফলে নিউমার্কেট এলাকায় আবাসিক হোটেলের চাহিদাও থাকে বেশি। হোটেলগুলো খুলতে শুরু করায় স্বস্তি ফিরছে পর্যটকদের মধ্যে। তবে ব্যবসার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি হোটেলগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।