
৮ অক্টোবরের খেলার সূচি
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২০

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে মেসির প্রথম কোচ হুগো তোকাল্লি শিষ্যকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। ছবি: এএফএ
লিওনেল মেসির প্রথম অধ্যায়টি লেখা হয়েছিল দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে। ২০০৪ সালের ২৯ জুন; দিনটি আর্জেন্টিনা ও বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। সেদিন লিওনেল মেসি প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি পরেছিলেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-২০ দলের একটি প্রীতি ম্যাচে তার অভিষেক হয়।
স্পেন যাতে তাকে নিজেদের দলে নেওয়ার সুযোগ না পায়, সে জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তড়িঘড়ি করে ম্যাচটির আয়োজন করেছিল। আর সেই ম্যাচ থেকেই শুরু হয়েছিল জাতীয় দলের হয়ে মেসির অবিশ্বাস্য গল্প। সেই ম্যাচে মেসির কোচ ছিলেন হুগো তোকাল্লি, আজ রোজারিওর সেই তারকার পুরো যাত্রার দিকে ফিরে তিনি গর্ব ও আবেগ অনুভব করেন।
জাতীয় দল থেকে মেসির অবসর নিয়ে তোকাল্লির অনুভূতি ‘মিশ্র’। বুধবার (৭ অক্টোবর) মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের মধ্য দিয়ে মেসি জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করবেন। তার প্রাক্বালে তোকাল্লি টিওয়াসি স্পোর্টসকে বলেন, 'একদিকে আমি খুশি, কারণ ফুটবল, বলতে গেলে, মেসিকে ছেড়ে যায়নি; বরং মেসিই ফুটবলকে ছেড়ে দিয়েছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘তার মতো একজন মহান খেলোয়াড়ের জন্য, যে বিশ্বের সেরা; এটাই তো স্বাভাবিক। আমার মনে হয় আর্জেন্টাইনদের তাকে নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত। সে জাতীয় দলের হয়ে আমাদের এত কিছু দিয়েছে। তাই আমরা আশা করি, তার জন্য সামনে সবকিছু সুন্দর হোক।’
বর্তমানে ইন্ডিপেনদিয়েন্তের যুব একাডেমির সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করা তোকাল্লি মনে করেন, প্রথম কয়েকটি অনুশীলন থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে মেসি অন্যরকম একজন খেলোয়াড়, যে সবাইকে অনেক আনন্দ দেবে। তবে মেসি যে এমন স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়বেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচটির কথাও তিনি স্পষ্টভাবে মনে রেখেছেন। লা প্যাটার্নালে প্রায় দর্শকশূন্য একটি মাঠে বার্সেলোনা থেকে সদ্য আসা ১৭ বছর বয়সী এক অচেনা কিশোর দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন। এমনকি দলের তালিকায় তার নামও লেখা হয়েছিল ‘Mecci’ হিসেবে।
মাঠে নেমেই তিনি নিজের জাদু দেখাতে শুরু করেন। দুই প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে, গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বাঁ পায়ে গোল করেন। ৮-০ ব্যবধানে জয় পাওয়া ম্যাচে সেটি ছিল আর্জেন্টিনার সপ্তম গোল। এভাবেই শুরু হয় আলবিসেলেস্তের সঙ্গে মেসির প্রেমের গল্প।
তার সাবেক কোচ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘সে অ্যাটাকিং থার্ডে বল পেয়েছিল, আর শেষ পর্যন্ত বল নিয়ে জালে পৌঁছে গিয়েছিল।’
ম্যাচটি অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে আয়োজন করা হয়েছিল, মূল উদ্দেশ্য ছিল স্পেনের আগে মেসিকে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত করা। তোকাল্লি জানান, তখন এএফএ’র সভাপতি হুলিও গ্রন্দোনা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাচটি আয়োজন করতে বলেছিলেন।
আজ, ২২ বছর পরও সেই ঘটনা মনে পড়লে তোকাল্লি থেমে যান, ভাবেন এবং বিশ্লেষণ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা তখন সবকিছু খুব দ্রুত করেছিলাম। এসব নিয়ে আপনি সবসময় ভাবেন এবং কাজটি করতে পেরেছিলেন বলে খুশি হন। তবে আমি এটাও বলি, সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, সবকিছু সেভাবেই হয়েছিল। কারণ দেখুন... স্প্যানিশ জাতীয় দলও তাকে নিতে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। মেসি যদি আর্জেন্টিনার হয়ে না খেলত, তাহলে হয়তো আমার কী হতো? তখন আমি যুব দলের দায়িত্বে ছিলাম। যদি সে না আসত, পুরো দায়িত্বটাই হয়তো আমার ওপর পড়ত।’
আর্জেন্টিনার যুব দলের হয়ে মেসির প্রথম কোচ তোকাল্লির সঙ্গে তার সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুনে, রোজারিওর মার্সেলো বিয়েলসা স্টেডিয়ামে ম্যাক্সি রদ্রিগেজের বিদায়ী ম্যাচে।
তোকাল্লি বলেন, ‘আমরা বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেছিলাম এবং আমি তাকে অনেক ধন্যবাদ দিয়েছিলাম। আমাদের মতো কোচদের জন্য, যারা সবসময় তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসে, সে একজন অসাধারণ আদর্শ।’
তিনি আরও বলেন, মেসি শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের কারণেই আদর্শ নন। মাঠের ভেতরে ও বাইরে তার আচরণও ছিল অনুকরণীয়।
তার ভাষায়, ‘যখন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে হয়, তখন কোনো দ্বিধা ছাড়াই তাকে সামনে রাখা যায়। আমরা তার সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। আমি তাকে ধন্যবাদ দিয়েছিলাম, কারণ আমার মনে হয় আর্জেন্টিনার যুব ফুটবলের জন্য সে অসাধারণ কিছু করেছে।’
তোকাল্লি আরও যোগ করেন, ‘তার আচরণ, চরিত্র এবং সে যেভাবে সবকিছু করেছে—এসব কারণে তার উত্তরাধিকার আরও বড়। তার আচরণ ও চরিত্রের এই দিকটিও তার জন্য একটি অসাধারণ উত্তরাধিকার।’
৩৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপে মেসির অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স তোকাল্লিকে মোটেও অবাক করেনি। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে এটা প্রত্যাশাই করেছিলাম।’ এমনকি তিনি মনে করেন, মেসির ব্যালন ডি’অর জেতা উচিত। ‘এভাবে শেষ করতে পারা, বিশ্বকাপ এবং সবকিছু নিয়ে... নিঃসন্দেহে সে এটি পাওয়ার যোগ্য।’