
৮ মাসে কুরআন মুখস্থ করল শিশু আব্দুর রহমান
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:২০

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নৈতিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে কওমি মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার অধিবেশন নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
সংগঠনটি বলেছে, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায় ব্যক্তির; এর সঙ্গে পুরো একটি শিক্ষা-ব্যবস্থা বা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানকে জড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কেন্দ্রীয় সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর পরিচালনায় এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী,মাওলানা লোকমান মাযহারী প্রমুখ
নেতারা বলেন, কোনো মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ থাকলে আইনানুগ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে।অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু অভিযোগের অজুহাতে কোনো মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করা কিংবা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
তারা বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঢালাওভাবে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং হামলার পরিবেশ সৃষ্টি করা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। তাই কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে আবেগ, গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার ওপর নির্ভর না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা কোনো অপরাধীর পক্ষাবলম্বন করি না। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় ও প্রতিষ্ঠান বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের ওপর অন্যায়ের দায় চাপিয়ে দেওয়া কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
জমিয়ত নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযোগের নামে দেশের কোনো মাদ্রাসায় হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীর বিচার চাই, কিন্তু কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস বা একটি বৃহৎ শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।