
কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ
ড. সুন্দুস আদেল আল-উবাইদ
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:৩১

প্রকৃত সুখ কোনো ক্ষণস্থায়ী অনুভূতি কিংবা দুনিয়াবি বিলাসিতার নাম নয়।
সুখ মানুষের জীবনের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। ধনী-গরিব, ছোট-বড়, মুসলিম-অমুসলিম—সবাই সুখের সন্ধান করে। আধুনিক যুগে সুখ অর্জনের নানা পদ্ধতি প্রচার করা হলেও প্রকৃত সুখের সন্ধান পাওয়া যায় মহান আল্লাহর নির্দেশনা ও নবীজির সুন্নাহর অনুসরণে।
সুখ নিয়ে দার্শনিক, মনোবিজ্ঞানী ও ধর্মীয় চিন্তাবিদদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। কেউ সুখকে ভোগ-বিলাসে, কেউ নৈতিকতা ও আত্মতৃপ্তিতে, আবার কেউ কর্ম ও প্রচেষ্টার মধ্যে খুঁজেছেন। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত সুখ কেবল দুনিয়াবি আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ অর্জনই এর মূল লক্ষ্য।
ইসলামি চিন্তাবিদ আল-কিন্দি সুখের জন্য সন্তুষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আল-ফারাবির মতে, নৈতিক গুণাবলি অর্জন সুখের চাবিকাঠি। ইবনে মিসকাওয়াইহ আখিরাতের সুখকে সর্বোচ্চ সুখ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। ইমাম গাজ্জালি দেহের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
নবীজির সুন্নাহতে সুখের নানা দিক উঠে এসেছে। ঈমান, আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্টি, নেক আমল, পারিবারিক শান্তি, সামাজিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও মানসিক প্রশান্তি—সবই সুখী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি, যে আন্তরিকভাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে। (সহিহ বুখারি)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, প্রকৃত সুখের অন্যতম ভিত্তি হলো অন্তরের গভীর থেকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস। ঈমান মানুষের জীবনে উদ্দেশ্য ও প্রশান্তি এনে দেয়। আল্লাহর ওপর ভরসা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং নেক আমল মানুষের অন্তরকে স্থির ও প্রশান্ত করে।
সুখের চারটি উপাদান
রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, চারটি বিষয় সৌভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত: নেককার স্ত্রী, প্রশস্ত বাসস্থান, ভালো প্রতিবেশী ও আরামদায়ক বাহন। আর চারটি বিষয় দুর্ভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত: খারাপ প্রতিবেশী, খারাপ স্ত্রী, সংকীর্ণ বাসস্থান ও খারাপ বাহন। (হাদিসের মর্মার্থ)
এই হাদিসে পারিবারিক শান্তি, সুন্দর প্রতিবেশী, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপন ও প্রয়োজন পূরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ইসলাম আত্মিক প্রশান্তির পাশাপাশি মানুষের বাস্তব জীবনের প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দেয়।
বিপদে ধৈর্য ও আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি
জীবনে বিপদ-আপদ আসবেই। তবে বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকা মুমিনের জন্য প্রশান্তির পথ। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, নিশ্চয়ই প্রতিদানের মহত্ত্ব পরীক্ষার মহত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসেন, তখন তাদের পরীক্ষা করেন। যে সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য রয়েছে সন্তুষ্টি; আর যে অসন্তুষ্ট হয়, তার জন্য রয়েছে অসন্তুষ্টি।(তিরমিজি)
এ ছাড়া আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, দান-সদকা, সালাত আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, মানুষের সঙ্গে সদাচরণ এবং আশাবাদী মনোভাবও সুখী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
সুখী জীবনের নববী নির্দেশনা
নবীজির সুন্নাহ অনুসরণ মানুষের মধ্যে আত্মিক, মানসিক ও সামাজিক পরিপক্বতা তৈরি করে। সুখী জীবনের জন্য পাঁচটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ঈমান ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা। নৈতিক গুণাবলি অর্জন ও অন্যায়ের পথ থেকে দূরে থাকা। পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের মানুষের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলা। অর্থবহ কাজ, পরিশ্রম ও সৎ লক্ষ্য অর্জনে আত্মনিয়োগ করা। পাশাপাশি ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আশাবাদ ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজের চরিত্র উন্নত করা।
প্রকৃত সুখের সংজ্ঞা
প্রকৃত সুখ কোনো ক্ষণস্থায়ী অনুভূতি কিংবা দুনিয়াবি বিলাসিতার নাম নয়। বরং এটি আল্লাহর প্রতি ঈমান, তার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি এবং নবীজির সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। সারকথা, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, অন্তরের সন্তুষ্টি এবং নবীজির সুন্নাহ অনুসরণ করে দুনিয়ায় জীবনযাপন ও আখিরাতে জান্নাত লাভের মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। সূত্র: ইসলাম অনলাইন