
কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮

ইমাম আবদুল্লাহ ওজকান
পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে যাত্রা করেছিলেন ৬৮ বছর বয়সী তুর্কি অবসরপ্রাপ্ত ইমাম আবদুল্লাহ ওজকান। কিন্তু সৌদি আরবের উদ্দেশে বিমানে ওঠার আগেই কনিয়া বিমানবন্দরে নামাজরত অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। ইহরাম পরা অবস্থায় সঙ্গী ওমরাহযাত্রীদের নিয়ে বিদায়ী দোয়া পরিচালনার সময় ঘটে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা।
তুরস্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোরে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় কনিয়া বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। আবদুল্লাহ ওজকান কনিয়া প্রদেশের বেইশেহির জেলার একজন অবসরপ্রাপ্ত ইমাম ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি হজ ও ওমরাহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে প্রায় ১৮০ জনের একটি দলের সঙ্গে সৌদি আরব যাচ্ছিলেন আবদুল্লাহ ওজকান। রাত ২টার দিকে ভ্রমণের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিমানবন্দরে সমবেত হন তাঁরা। এ সময় যাত্রীদের নিয়ে বিদায়ী নামাজ ও দোয়া পরিচালনা করেন তিনি।
নামাজ শেষে কালিমায়ে শাহাদাত, তালবিয়া এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি দরুদ পাঠ করছিলেন আবদুল্লাহ ওজকান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দরুদ পাঠের শেষ পর্যায়ে হঠাৎ তাঁর কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে আসে। একপর্যায়ে সামনের দিকে ঢলে পড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
এ সময় আশপাশে থাকা ওমরাহযাত্রীরা দ্রুত তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। বিমানবন্দরের চিকিৎসাকর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা ও হৃদ্যন্ত্র সচল করার চেষ্টা (সিপিআর) চালান। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে সেলচুক বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল ফ্যাকাল্টি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
তুর্কি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
আবদুল্লাহ ওজকানের সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর ধরে কাজ করেছেন ইসমাইল গুমুশ। ঘটনার সময় তিনিও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, মৃত্যুর আগে ওজকানের মধ্যে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
গুমুশ বলেন, নামাজ শেষ করে মহানবী সা.-এর প্রতি দরুদ পাঠ করার সময় তার কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে আসে। এরপরই তিনি সামনের দিকে পড়ে যান।
বেইশেহিরের মুফতি এনেস আকতাশ আবদুল্লাহ ওজকানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন বলে উল্লেখ করেন আকতাশ।
শুক্রবার বেইশেহির জেলার চারশি মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে বেইশেহির কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্য, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরাম পরে যাত্রা শুরু করলেও মক্কায় পৌঁছানো হলো না আবদুল্লাহ ওজকানের। বিদায়ী দোয়া পরিচালনার সময়ই থেমে গেল তাঁর জীবনের পথচলা।