
কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আসআদুর রহমান কাসেমীর ইন্তেকাল
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩৪

ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা ও মুহতামিম আল্লামা আবুল কাসেম নোমানি
মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দারুল উলুম দেওবন্দে অল ইন্ডিয়া রাবেতায়ে মাদারিসে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বার্ষিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মাদরাসার দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে মুফতি আবুল কাসেম নোমানি বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ভবন ও জমির মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। সরকারি বিধিবিধান অনুসারে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের মাধ্যমে হিসাবপত্র নিরীক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে। মাদরাসার দায়িত্বশীলদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার পাশাপাশি দেশবাসীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং মানবসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়াও জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, পরিস্থিতি যেমনই হোক, তা পূর্ণ সচেতনতা, বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।
সভায় দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসিন ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানিও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে মুসলমানদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বর্তমান সময় মুসলমান ও মাদরাসাগুলোর জন্য কঠিন হলেও পূর্বসূরি আলেমরা সব সময় এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছেন।
মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেন, ১৮৬৬ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য ছিল এমন যোগ্য মানুষ তৈরি করা, যাঁরা দেশের স্বাধীনতা, ঐক্য-সংহতি এবং উন্নয়ন-অগ্রগতিতে অবদান রাখবেন।
সভায় রাবেতায়ে মাদারিসের বিগত কার্যক্রম ও বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্ধারিত আলোচ্যসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের আলেম, মাদরাসার দায়িত্বশীল ও দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষকরা সভায় অংশ নেন। সকাল সাড়ে ৯টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সভাপতির দোয়ার মাধ্যমে অধিবেশন শেষ হয়।