
৩৮ জনকে হত্যা করে মাংস খাওয়ার অভিযোগ, উগান্ডায় গ্রেফতার ভয়ংকর নরখাদক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে এবং হামলা বন্ধ করার চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরব ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ইসরাইলি গণমাধ্যম।
প্রতিবেদন অনুসারে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান হুতিদের সাথে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেছেন। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় ইরানের মাধ্যমে গোষ্ঠীটিকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক একটি সূত্র দাবি করেছে, সৌদি মন্ত্রী যে ‘হারকিউলিস’ সামরিক বিমানে করে তেহরানে গিয়েছিলেন, সেই বিমানে করেই তিনি অর্থ নিয়ে এসেছিলেন। তবে কোনো অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, তা সৌদি আরবের কোনো কর্মকর্তা নিশ্চিত করেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
খবর অনুযায়ী, এই আলোচনায় তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও অংশ নেন। এছাড়া এতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মহাসচিব মোহসেন রেজায়ি এবং আইআরজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে ক্রমবর্ধমান হামলার মধ্যে ইরান সৌদি আরব এবং হুতিদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারের ওপর ইরানি হামলাও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি ব্যাহত করেছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সফরের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছে, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যালায়েন্সের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফরটি এই জোটের চলমান প্রচেষ্টারই একটি অংশ। এর লক্ষ্য হলো বর্তমান সংকটে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন করা, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথকে উৎসাহিত করা এবং কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে গৃহীত মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন জোগানো।’
আর্থিক লেনদেনের খবরটি নিশ্চিত না করলেও এ সৌদি কর্মকর্তা ইসরাইলি গণমাধ্যমকে বলেছেন, হুতিদের সঙ্গে বিরোধের একটি অংশ তিন বছর আগে হওয়া সমঝোতাগুলোর বাস্তবায়ন সম্পর্কিত।
সেই সমঝোতা অনুসারে, মীমাংসা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হুতিদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল সৌদি আরবের। এই তহবিলের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি খাতের বেতন পরিশোধ করা এবং বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর বিনিময়ে গোষ্ঠীটি যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং সৌদি আরবের ওপর হামলা বন্ধ করবে বলে আশা করা হয়েছিল।
তবে সৌদি আরব পূর্বের বোঝাপড়া থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ তুলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে, হুতিরা তাদের হামলাকে ‘ন্যায্যতা’ দিয়েছে।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস