
এআই নিয়ে বিল গেটসের শঙ্কা, পরদিনই মাইক্রোসফটে ৬০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৬

ইসরাইলের ভোটাররা পার্লামেন্ট (নেসেট)-এর ১২০ জন সদস্যকে নির্বাচিত করতে ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন। ছবি: রয়টার্স
ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট শুরু হয়।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা’র তথ্য বলছে, এই নির্বাচনে প্রায় ৭৩ লাখ ইসরাইলি ভোট দেওয়ার যোগ্য, এর মধ্যে ইসরাইলের ১২ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত।
তবে বিদেশে বসবাসকারী অধিকাংশ ইসরাইলি ভোট দিতে পারছেন না। কারণ ইসরাইলে অনুপস্থিত অবস্থায় ভোট দেওয়ার (অ্যাবসেন্টি ব্যালট) কোনো সাধারণ ব্যবস্থা নেই এবং নির্বাচনের দিন ভোটারদের সশরীরে দেশটিতে উপস্থিত থাকা আবশ্যক।
যদিও কূটনীতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা এর ব্যতিক্রম, তারা ইসরাইলি মিশনগুলোতে নিজেদের ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচনে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়
এই নির্বাচনী চক্রে ইসরাইলিরা বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমস্যার মোকাবিলা করছে, যার মধ্যে রয়েছে–
৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা: তিন বছর পেরিয়ে গেলেও, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনাগুলো তদন্তের জন্য সরকার এখনো কোনো রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেনি। সেদিন হামাসের নেতৃত্বাধীন এক হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এক গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু করে, যাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৪,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে এবং অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটির অধিকাংশ এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।
আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি: এই অব্যাহতির সমর্থকরা বলছেন, এটি পূর্ণকালীন তোরাহ অধ্যয়নকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু সমালোচকদের যুক্তি হলো, এর ফলে অন্য সবার ওপর সামরিক পরিষেবার অন্যায্য বোঝা চাপে।
বিচার বিভাগীয় সংস্কার: সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব করার জন্য নেতানিয়াহুর উদ্যোগ, যা গাজায় যুদ্ধের আগে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল, এখনও একটি গভীর বিভাজনরেখা হিসেবে রয়ে গেছে। সমালোচকরা এটিকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সমর্থকদের যুক্তি, আদালত তার এখতিয়ার অতিক্রম করেছে।
যুদ্ধ ও নিরাপত্তা: জনগণ স্থিতিশীলতা চায়, তবে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং লেবাননের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার বিষয়ে তারা সতর্ক। নেতানিয়াহু “পূর্ণ বিজয়ের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু হামাস ও হিজবুল্লাহ এখনো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
জীবনযাত্রার ব্যয়: উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সীমিত মজুরির ওপর প্রতিরক্ষা খাতে আকাশচুম্বী ব্যয়ের কারণে চাপ আরও বাড়ছে। ২০২৩ সাল থেকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ হয়েছে, যা সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা