
ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানসহ ৩ দেশের বৈঠক শুরু, লক্ষ্য জানাল সৌদি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫৫

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) টোকিওর একটি হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৯০ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তার ছেলে সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত মেয়াদে জাপানের নেতৃত্ব দেওয়া এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ক্ষমতা ছাড়ার পরও বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।
ইয়াসুও ফুকুদার বাবা তাকেও ফুকুদাও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে শিনজো আবের আকস্মিক পদত্যাগের পর দেশটির দায়িত্ব নেন ইয়াসুও। জাপানের ইতিহাসে বাবা ও ছেলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার একমাত্র নজির এই ফুকুদা পরিবারই।
ফুকুদার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, 'জাপানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ফুকুদার অবদান অসামান্য। দেশের জনগণের প্রতি তার দীর্ঘদিনের নিবেদিতসেবার জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।'
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে চীন-জাপান সম্পর্ক সুদৃঢ় করার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন ফুকুদা। ২০০৮ সালের মে মাসে তৎকালীন চীনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওকে টোকিওতে স্বাগত জানান তিনি। সেখানে দুই নেতা 'যৌথ কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে পারস্পরিক সুবিধাজনক সম্পর্ক' গড়ার ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ক্ষমতা ছাড়ার পরও দুই দেশের অঘোষিত দূত হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার গোপন বৈঠকটি পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকের পথ সুগম করেছিল।
ফুকুদার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গো জিয়াকুন। ফুকুদাকে 'চীনা জনগণের পুরানো বন্ধু' হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে তার অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।
২০০৮ সালের জুলাইয়ে হোক্কাইদোতে জি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন ফুকুদা। তার নেতৃত্বেই সদস্য দেশগুলো ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ অন্তত ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রায় সম্মত হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তনকে বিশ্ব রাজনীতির মূল আলোচনায় নিয়ে আসে।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভেষজ রক্তপণ্য ব্যবহারের কারণে হেপাটাইটিস সি-তে আক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আইন পাস করান তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভুক্তভোগীদের কাছে দু'বার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাও চেয়েছিলেন ফুকুদা। এছাড়া খাদ্যে ভেজাল ও কেলেঙ্কারি রুখতে তিনি যে ভোক্তা অধিকার সংস্থা (কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স এজেন্সি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা ২০০৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে ইয়াসুও ফুকুদা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিরো মোরি এবং জুনিচিরো কোইজুমির শাসনামলে চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে গুনমা প্রদেশ থেকে প্রতিনিধি পরিষদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তার মূল রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।
ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং তার স্থলাভিষিক্ত হন তারো আসো। পরবর্তীতে ২০১২ সালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন এই প্রভাবশালী নেতা।