
এআই নিয়ে বিল গেটসের শঙ্কা, পরদিনই মাইক্রোসফটে ৬০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৫

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই এক অপ্রতিরোধ্য নাম 'ব্রহ্মস' সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। শব্দের চেয়ে প্রায় তিন গুণ গতি, উচ্চমাত্রার নির্ভুলতা এবং স্থল, সমুদ্র ও আকাশ; তিন মাধ্যম থেকেই নিক্ষেপের সক্ষমতা একে দিয়েছে অনন্য সামরিক গুরুত্ব। সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে এর সফল ব্যবহারের পর আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারেও ব্রহ্মসকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মিসাইলটির আরও আধুনিক ও উন্নত সংস্করণ তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে ভারত।
ব্রহ্মসের প্রাথমিক সংস্করণের পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার, যা শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ২ দশমিক ৮ গুণ বেশি। রাডারকে ফাঁকি দিয়ে ভূমির কাছাকাছি নিচু দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যাওয়ার ক্ষমতা শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহজ সমীকরণের মুখে ফেলতে দেয় না।
তবে ব্রহ্মসের মূল শক্তি কেবল গতিতেই সীমাবদ্ধ নয়; লক্ষ্যবস্তুর ধরন বুঝে নিখুঁত আঘাত হানতে এটি অত্যন্ত পারদর্শী। শত্রুর যুদ্ধজাহাজ কিংবা ভূমিতে অবস্থিত কৌশলগত সামরিক স্থাপনা; উভয়ক্ষেত্রেই এটি সমানভাবে বিধ্বংসী। 'ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট' প্রযুক্তির কারণে একবার উৎক্ষেপণ করা হলে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিজে থেকেই লক্ষ্যবস্তু খুঁজে নিয়ে আঘাত হানে। এছাড়া, অতিরিক্ত গতির কারণে আঘাতের মুহূর্তে তৈরি হওয়া বিপুল শক্তি লক্ষ্যবস্তুর ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ব্রহ্মসের অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল নয়। স্থলভাগের মোবাইল লঞ্চার, সমুদ্রের যুদ্ধজাহাজ এবং ফাঁকা আকাশের যুদ্ধবিমান; তিন স্থান থেকেই এটি সমান দক্ষতায় নিক্ষেপ করা যায়। প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা বলয়ের কাছাকাছি না গিয়ে দূর থেকেই হামলা চালানোর এই সুবিধা যুদ্ধবিমানের ঝুঁকি কমায় এবং সামরিক অভিযানের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
২০২৫ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় ব্রহ্মস ব্যবহারের কথা জানিয়েছে ভারত। ওই অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্রটির সক্ষমতা প্রমাণিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বেড়েছে।এবার নজর আরও উন্নত সংস্করণে। ব্রহ্মস-এনজি বা নেক্সট জেনারেশন ক্ষেপণাস্ত্রকে আরও ছোট ও হালকা করার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। যাতে যুদ্ধবিমান একসঙ্গে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। যা ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।