
ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কার মধ্যে পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারী বরখাস্ত
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৪

কোনো জোট এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা না দেখা যাওয়ায় আরব দলগুলোর ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে আরব দলগুলোর ঐতিহাসিক সাফল্যের পর ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। আংশিক ফলাফলে আরব দলগুলোর সরকার গঠনে ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আভাস মেলার পরই এই অভিযোগ তোলে দলটি।
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেতে যাচ্ছে ৪৮টি আসন। ফলে ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দুই জোটই দূরে রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে উত্থান ঘটেছে আরব দলগুলোর। আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ‘রা’আম এবং ‘জয়েন্ট লিস্ট’ রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, তারা নেসেটে রেকর্ড ১৯টি আসন জিততে পারে, যা তাদের বর্তমান সম্মিলিত ১০টি আসনের প্রায় দ্বিগুণ।
নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট আরবদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। যদিও শুরু থেকেই নেতানিয়াহু ও লিকুদ পার্টি আরবদের নিয়ে সরকার গঠনের এমন সম্ভাবনাকে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে আসছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে লিকুদ পার্টি দাবি করে, ইসরাইলের নির্বাচন সেই আরব দলগুলো চুরি করেছে, যারা সন্ত্রাসবাদ এবং ইহুদি রাষ্ট্র ধ্বংসকে সমর্থন করে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, আরব দলগুলো ভোটারদের জড়ো করতে ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি এবং অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ করেছে। এর মধ্যে নগদ অর্থসহ খাম, জাল ভোট ও ভোটকেন্দ্রে সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। ভোট জালিয়াতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে লিকুদ পার্টি।
ইসরাইলের এবারের নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির প্রশংসা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। নির্বাচন-পরবর্তী বক্তব্যে তিনি বলেন, ভোটারদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ ইসরাইলি সমাজের জন্য ‘গৌরবের প্রতীক’। এটি গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের দৃঢ় অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন। বছরের পর বছর রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং বারবার নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় নতুন করে ভোট আয়োজন এড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আরব ও ইহুদিদের সমন্বয়ে ঐক্য সরকার গঠনের দাবিতে তেল আবিবের রাজপথে বিক্ষোভ করেছেন ইসরাইলিরা। নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পথ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী পক্ষ। এ পরিস্থিতিতে আরব দলগুলো সরকার গঠনে নির্ধারক ভূমিকা রাখতে পারে।