
সাড়ে ৯ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:১৯

ইসরাইলের বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। ছবি: রয়টার্স
ইসরাইলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে তাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন আইজেনকোট। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যাবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আইজেনকোটকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট। আজ রোববার (৮ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র।
গত ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আইজেনকোটের চার দলের জোট পেয়েছে ৪৮ আসন, নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও ধর্মীয় জোটের ঝুলিতে ৫৩। তবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পরামর্শে ৬৭ আইনপ্রণেতা আইজেনকটের পক্ষে সমর্থন জানান, নেতানিয়াহুর পক্ষে ছিলেন ৪৬ জন। আরব দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯ আসন।
নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেয়া হবে, তা নির্ধারণে গত সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেন হারজোগ।
এতে বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির নেতা আইজেনকোটের পক্ষে সমর্থন জানান ৬৭ জন আইনপ্রণেতা। তাদের মধ্যে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সদস্যরাও রয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন দেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা। সরকার গঠনের জন্য ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬১টির সমর্থন প্রয়োজন।
তবে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নকচ করে দিয়েছেন আইজেনকোট। এসব দলের সমর্থন পেলে তার জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭টি। অন্যদিকে অতি-গোঁড়া ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও শাসের সমর্থন পেলে বিরোধীদের আসনসংখ্যা হবে ৬১টি।
সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়ায় আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়ার প্রেসিডেন্ট হারজোগের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাশিতই ছিল। তবে তার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, নির্বাচনী প্রচারে দেয়া প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে এমন একটি সরকার গঠন করা, যা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের বিরোধিতা মোকাবিলা করতে পারবে।
আইজেনকট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য একজনকে দায়িত্ব দেবেন। দ্বিতীয় মনোনীত প্রার্থীও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় একজনকে মনোনীত করতে পারবেন। তাকে চূড়ান্তভাবে ১৪ দিন সময় দেয়া হবে। এরপরও সরকার গঠন সম্ভব না হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন নেতানিয়াহু।
২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন আইজেনকোট। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম আট মাস নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ নেতা আহমাদ তিবি বলেন, প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ছিল। তবে আইজেনকোট ও নেতানিয়াহুর মধ্যে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন।
তিবির মতে, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে আইজেনকোট সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন। যদিও এ ধরনের সরকার আরব দলগুলোর প্রত্যাশিত সরকার হবে না। তারপরও নেতানিয়াহু, ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে বিরোধীরা সরকার গঠন করলে ইসরাইলের পতন ঘটবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দেয়া ভিডিও বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এখন ঐক্যের সময়। জনগণের ইচ্ছা এটাই, সময়েরও এটাই দাবি। সন্ত্রাসের সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে না।’
তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতারা আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব দল হামাসকে সমর্থন করে এবং ইসরাইলের অস্তিত্ব দুর্বল করতে চায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, এই সপ্তাহের শুরুতেই কেউ কেউ তড়িঘড়ি করে সন্ত্রাসের সমর্থকদের নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন। এমন একটি সরকার ইসরাইল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চাওয়া এবং এর ধ্বংসস্তূপের ওপর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষের লোকদের ওপর নির্ভরশীল হবে।
এ ধরনের সরকার ইরানের হুমকি এবং গাজা ও লেবাননে চলমান সংঘাতসহ ইসরাইলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: আল জাজিরা