
মার্কিন সিনেটে জিতে ইতিহাস গড়লেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৫১

ইলহান ওমর। ছবি: রয়টার্স
আবারও জয় পেয়েছেন সোমালি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেলকে পরাজিত করে টানা পঞ্চমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার জয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের নির্বাচনে ইলহান ওমরকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
২০১৮ সালে প্রথমবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হন ইলহান ওমর। এরপর ২০২০, ২০২২, ২০২৪ এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের নির্বাচনেও জয় ধরে রাখলেন তিনি। মিনিয়াপোলিসসহ আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনটি ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
এবারের নির্বাচনে তার জয় এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধ এবং তাকে ঘিরে চলমান কেন্দ্রীয় তদন্তের মধ্যেই।
নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাসভবনে তল্লাশি চালায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)। বিচার বিভাগের অনুমোদিত পরোয়ানার ভিত্তিতে চালানো এ অভিযানের সঙ্গে তার অভিবাসনসংক্রান্ত পুরোনো নথিপত্রের তদন্তের যোগসূত্র রয়েছে বলে জানায় মার্কিন বিচার বিভাগ।
তদন্তকারীরা মূলত ইলহান ওমর এবং তার প্রয়াত বাবার দেওয়া অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা খতিয়ে দেখছেন। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সময় কিছু তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এছাড়া তার অতীতের বিয়ে নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন রিপাবলিকান রাজনীতিক ও রক্ষণশীল মহলের কয়েকজন। তাদের দাবি, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করেছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরেই এমন অভিযোগ রয়েছে যে এলমি ইলহামের ভাই। তবে ইলহাম বারবার এ অভিযোগ নাকচ করে আসছেন। তার মুখপাত্রও অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন রাজনৈতিক আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন।
এখন পর্যন্ত ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগে কোনো ফৌজদারি অভিযোগপত্র দাখিল বা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার মিত্রদের সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইলহান ওমর। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ এবং অভিবাসী পরিচয়ের কারণে রাজনৈতিকভাবে নিশানা করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সম্প্রতি দ্য নেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের আচরণকে তার প্রতি ‘অস্বাস্থ্যকর ও অদ্ভুত আসক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন ওমর। তার দাবি, রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিবাসী পরিচয়ের কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে তদন্ত আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ।
তদন্ত ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেও নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে গেছেন ইলহান ওমর। নির্বাচনের আগে মিনেসোটায় ফিরে ভোট দেন এবং স্থানীয় সোমালি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। পাশাপাশি সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
তার এই জয় মিনেসোটার পঞ্চম আসনে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি আগামী দুই বছর প্রতিনিধি পরিষদে তার রাজনৈতিক ভূমিকা অব্যাহত রাখার পথ তৈরি করেছে।
তবে নির্বাচনে জয় পেলেও তাকে ঘিরে চলমান কেন্দ্রীয় তদন্ত ও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ আগামী দিনগুলোতে মার্কিন রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ, এপি