
চলছে ‘সংহতির জন্য কনসার্ট’, হাজারো সংগীতপ্রেমীর ভিড়
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:৩১

বিতর্কিত ও সমালোচিত পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত
একের পর এক বিতর্কিতকাণ্ড করে ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছেন ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের অকারণে হেনস্তার পর এবার দেশের জাতীয় সংগীতের বিকৃত ব্যবহার করলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেয়ার পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কালো পোশাক পরা ১১ জন বডিগার্ড আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের ওপর অকারণে চড়াও হন। এমন পরিস্থিতিতে পরীমণির বডিগার্ডের আঘাতে মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ করেন সুজন চন্দ্র নামের এক বিচারপ্রার্থী।
আদালত প্রাঙ্গণে সকালে এমন তাণ্ডব করার পর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুন ছড়ান পরীমণি। ওইদিনই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আপত্তিকর ও অশোভন একাধিক শব্দ ব্যবহার করে একটি স্ট্যাটাস দেন পরী। আর এমন বিতর্কিত স্ট্যাটাসের সঙ্গে জুড়ে দেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।
জাতীয় সংগীত অবমাননা ও এর বিতর্কিত ব্যবহার প্রসঙ্গে জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হামিদ খান বলেন,
এক্ষেত্রে অপরাধীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রোদ্রোহীর মামলা হতে পারে। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সংগীত অবমাননা ও এর বিতর্কিত ব্যবহার করলে সেক্ষেত্রে দেশের আইন অনুযায়ী তিনি সর্বোচ্চ শাস্তির সাজাপ্রাপ্ত হবেন।
প্রকাশ্যে দেশের জাতীয় সংগীতের অবমাননা করলে কিংবা এর ব্যবহার বিতর্কিত হলে এর সুস্পষ্ট শাস্তি বাংলাদেশে রয়েছে। ‘বাংলাদেশের সংবিধান’র অনুচ্ছেদ ৪-এ জাতীয় সংগীতের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এতে সরাসরি শাস্তির বিষয়টি উল্লেখ নেই।
জাতীয় সংগীত অবমাননার শাস্তি সরাসরি উল্লেখ রয়েছে ‘দ্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যান্থেম, ফ্ল্যাগ অ্যান্ড এমব্লেম অর্ডার’ (১৯৭২)-এ। এখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে জাতীয় সংগীতের অবমাননা করলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে এর গাম্ভীর্য ও সম্মান নষ্ট করলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন অপরাধী।
২০১০ সালে এ অর্ডারের সংশোধিত আইনে অপরাধীর শাস্তি আরও দ্বিগুণ করা হয়। ‘দ্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যান্থেম, ফ্ল্যাগ অ্যান্ড এমব্লেম অর্ডার, ১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০ আইন অনুযায়ী) জাতীয় সংগীত, পতাকা বা প্রতীকের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে বা অবমাননা করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।