
চলছে ‘সংহতির জন্য কনসার্ট’, হাজারো সংগীতপ্রেমীর ভিড়

টালিউড অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ছবি: সংগৃহীত
টালিউডের সর্বকালের সেরা নায়িকাদের তালিকা করলে টালিউড অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত থাকবেন প্রথম সারিতেই। বাংলা সিনেমা করে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া হাতে গোনা তারকার একজন গুণী এ অভিনেত্রী। আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) তার শুভ জন্মদিন।
১৯৭০ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন ঋতুপর্ণা। কলকাতার কার্মেল কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা শেষে লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক হন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি অভিনয়ের প্রতিও ধীরে ধীরে তৈরি হয় তার আগ্রহ।
১৯৮৯ সালে দূরদর্শনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শ্বেত কপোত’-এর মাধ্যমে ছোটপর্দায় অভিনয় শুরু করেন ঋতুপর্ণা। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে বড়পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি করেন। ৯০-এর দশক থেকেই বাংলা চলচ্চিত্রে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। টালিউড অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অর্ধ শতাধিক সিনেমার সফল ক্যারিয়ার গড়ে হয়ে ওঠেন টালিউডের অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেডি সুপারস্টার।
সময়ের সঙ্গে বদলেছে বাংলা সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি, এসেছে নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। কিন্তু নিজের অভিনয়জীবনের দীর্ঘ পথচলায় স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছেন তিনি। অভিনয় দক্ষতা, সৌন্দর্য এবং পর্দায় চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার অসাধারণ ক্ষমতায় কয়েক দশক ধরে দর্শকের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন।
কলকাতার শিল্পী হলেও ঋতুপর্ণা উল্লেখযোগ্য কাজ করে সমান জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন বাংলাদেশের দর্শকের কাছেও। তার কাজের পরিধি বলিউড থেকে দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত।
ঋতুপর্ণার অভিনয় জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত সিনেমা ‘দহন’। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমায় এক ধর্ষিতা গৃহবধূর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এই সিনেমার জন্যই ১৯৯৮ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ঋতুপর্ণা।
বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক ঘরানা- দুই ধরনের সিনেমাতেই সমান উজ্জ্বল ও দ্যুতি ছড়িয়েছেন ঋতুপর্ণা। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে ঋতু বলেছিলেন,
আমি থামতে জানি না, থামতে চাই না, আমাকে থামানো যাবে না।
সাম্প্রতিক সময়ের নানাবিধ সোশ্যাল মিডিয়া ট্রল, আলোচনা-সমালোচনাকে পায়ে ঠেলে তাই আজও একই উদ্যমে শোবিজ ইন্ডাস্ট্রিতে এগিয়ে চলছেন। অভিনয়ের মতো ব্যক্তিগত জীবনও নিজের মতো করে সাজিয়েছেন। ১৯৯৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর সঞ্জয় চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী। দুই সন্তান অঙ্কন ও রিশোনা নিয়াকে নিয়ে তার সুখের সংসার।