
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৬

পটুয়াখালীর নদী-সাগরে প্রকাশ্যেই চলছে ইলিশ শিকার। ছবি: সময় সংবাদ
মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। অথচ পটুয়াখালীর নদী-সাগরে প্রকাশ্যেই চলছে ইলিশ শিকার। প্রশাসনের অভিযানের মধ্যেও জাল ফেলছেন জেলেরা। কোথাও কোথাও বাধা ও হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে অভিযান পরিচালনাকারীদের।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার সুযোগে অন্য পেশার মানুষও নদীতে নামছেন। আবার জীবিকার তাগিদে মাছ ধরছেন কিছু জেলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান ও জরিমানা নয়, ইলিশ রক্ষায় প্রয়োজন জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দেয়া জরুরি।
সরেজমিনে পটুয়াখালীর পায়রা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, নদীজুড়ে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। কেউ জাল ফেলছেন, কেউ আবার নদী থেকে জাল টেনে তুলছেন। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চলছে দলবদ্ধভাবে ইলিশ শিকার। নদীতে এমন প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা গেলেও তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই প্রশাসনের।
শুধু পায়রা নয়, জেলার তেঁতুলিয়া, আন্ধারমানিক ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতেও একই চিত্র দেখা গেছে। এমনকি সাগর থেকে ইলিশের নদীতে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ মোহনাগুলোতেও চলছে মাছ শিকার। বেশ কয়েক দিন ধরে নদী ও উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশে ঘুরে এসব চিত্র পেয়েছে সময় সংবাদ।
জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ শিকার করা ব্যক্তিদের অনেকেই পেশাদার জেলে নন। অন্য পেশার মানুষও বেশি লাভের আশায় এ সময় মাছ ধরতে নামছেন। অল্প পুঁজিতে কারেন্ট জাল ও ছোট ট্রলার নিয়ে ২২ দিনের জন্য মাছ শিকারকে সাময়িক পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন তারা।
তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার পেছনে জীবিকার সংকটও একটি কারণ বলে জানিয়েছেন জেলেরা। তারা জানান, সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেয়ে নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তির ঝুঁকি জেনেও নদীতে নামতে হচ্ছে।
জেলেদের অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু জেলে টাকা দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ পান। অভিযানের আগেই তাদের সতর্ক করে সরিয়ে দেয়া হয়। অথচ সাধারণ জেলেদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, মা ইলিশ রক্ষায় মৎস্য বিভাগ, পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান চলছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার বন্ধ করতে গিয়ে অভিযান পরিচালনাকারীদের বাধা ও হামলার মুখেও পড়তে হচ্ছে।
এ দিকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. রাজিব সরকার বলেন, ‘কেবল অভিযান, মামলা ও জরিমানা দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ইলিশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা কঠিন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে অভাবের তাড়নায় তাদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামতে না হয়।’
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৩৩টি মামলা করা হয়েছে। কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে ১১৮ জনকে এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে দুই লাখ ৩১ হাজার ৬০০ টাকা।
মা ইলিশের নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে প্রতিবছর প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। গত ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার কথা ২৯ অক্টোবর। এ সময়ে নদী ও সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে।