
যেখানে চিকিৎসক দরকার সেখানেই পোস্টিং হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৯

বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল। ছবি: সময় সংবাদ
১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল পার করেছে দীর্ঘ ১৪৮ বছর। দীর্ঘ এই সময় ধরে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আজও জাতীয়করণ করা হয়নি। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের জোর দাবি জানিয়েছেন এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী ও বর্তমান কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিদ্যালয়টি শততম বার্ষিকী পালন করে। কালের বিবর্তনে এটি 'বাগেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়', 'বাগেরহাট স্কুল', 'টাউন স্কুল'সহ নানা নামে ভৈরব নদীর তীরবর্তী জনপদকে আলোর পথ দেখিয়ে আসছে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি 'বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল'-এ উন্নীত হয়। বর্তমানে এই শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানে ১,২০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং শিক্ষক-কর্মচারী হিসেবে কর্মরত আছেন ৪৭ জন। এখানে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে এর ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ভবন।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ মুস্তাক আহমেদ জানান, বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল শুধু পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অনন্য ভূমিকা রাখছে। জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের। খেলাধুলাতেও রয়েছে এর উজ্জ্বল সাফল্য। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সুনাম কুড়িয়েছে। এ স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দেশের কৃতি ক্রিকেটার রুবেল আহমেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় তপু।
বিদ্যালয়টির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নীলা আক্তার ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শোভন জানায়, ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলে পড়ার সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত। জাতীয়করণ হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা খুব স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাবে। এছাড়া সহশিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় এগিয়ে থাকা এ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হলে তা আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বাগেরহাটের শিক্ষাবিদ সাবেক অধ্যক্ষ খান সালেহ আহম্মদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি ১৯৫৫ সালের জানুয়ারিতে এ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৬১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। শিক্ষকদের অসাধারণ পাঠদান ও আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, 'খুবই অবাক লাগে, এরই মধ্যে কতশত স্কুল জাতীয়করণ হয়ে গেল, কিন্তু আমার এই স্কুল আর হলো না। অতি দ্রুত সরকার এদিকে নজর দেবেন বলে আশা করছি।'
অপর এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুর রব আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, 'এই বিদ্যালয়ের পূর্ব নাম ছিল ‘হাই ইংলিশ স্কুল’ (এইচ ই স্কুল)। ১৯৬৯ সালে এখান থেকে আমি ম্যাট্রিকুলেশন পাস করি। আজ দেশের কত শত স্কুল জাতীয়করণ হয়ে গেল, তাতে দুঃখ নেই, শিক্ষার উন্নয়ন হোক। কিন্তু আমার এই ঐতিহ্যবাহী প্রিয় প্রতিষ্ঠানটি আজও অবহেলিত রয়ে গেছে। এই অবস্থা দেখে বুকে রক্তক্ষরণ হয়। এটি অতি দ্রুত জাতীয়করণ করা হলে এর উন্নতির আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে।'
বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম, এ সালাম বলেন, ভৈরব তীরে ১৮৭৮ সালে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের বহু সুনাম বয়ে এনেছে এবং এখান থেকে পাস করা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উচ্চপদে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘ ১৪৮ বছর পার হলেও বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ না হওয়া দুঃখজনক। বর্তমান সরকারের আমলেই প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ অঞ্চলের এই প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ফারহানা আক্তার বলেন, 'বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের লক্ষ্যে যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। ১৪৮ বছরের প্রাচীন এ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে। ফলে এখান থেকে আরও মেধাবী শিক্ষার্থী বের হয়ে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।'